দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির মালিকানাসংক্রান্ত তথ্য সরকারি ভূমি রেকর্ডে হালনাগাদ করতে নামজারি করা জরুরি। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করতে হবে। আর জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে প্রয়োজন হবে নিবন্ধিত বণ্টননামা।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশকে একই খতিয়ানে তাঁদের আইনগত প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী সহ-অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে। ফলে অন্য ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে এককভাবে পুরো জমির নামজারি করার সুযোগ নেই।
নামজারির নিয়মে যেসব পরিবর্তন
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির আবেদনে মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম উল্লেখ করতে হবে। প্রত্যেক ওয়ারিশকে তাঁর আইনগত প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ওয়ারিশদের মধ্যে জমির আনুষ্ঠানিক বণ্টন না হলেও যৌথ নামজারি করা যাবে। শুধু বণ্টননামা নেই—এ কারণে যৌথ নামজারির আবেদন বাতিল করা যাবে না। তবে জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা প্রয়োজন হবে।
নামজারির আবেদনের সঙ্গে ওয়ারিশ সনদ জমা দিতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে এ সনদ সংগ্রহ করা যায়। ওয়ারিশদের তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ না থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ওয়ারিশরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে প্রথমে নিবন্ধিত বণ্টননামা সম্পন্ন করতে হবে। এরপর বণ্টন অনুযায়ী প্রত্যেকে নিজের অংশের জন্য পৃথক নামজারির আবেদন করতে পারবেন।
নামজারির জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে
জমির ধরন ও মালিকানা অর্জনের পদ্ধতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত নামজারির আবেদনে যেসব নথি প্রয়োজন হয়, সেগুলো হলো—
১. জমি কেনার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের কপি।
২. আগের খতিয়ানের কপি।
৩. জমির দাগ নম্বর ও সংশ্লিষ্ট বিবরণ।
৪. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য।
৫. উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যুসনদ।
৬. জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা।
৭. নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের তথ্য এবং কর্তৃপক্ষের চাওয়া অন্যান্য নথি।
আবেদনের আগে দলিল, খতিয়ান, জমির পরিমাণ, দাগ নম্বর ও মালিকানার তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। নথিপত্রে অসংগতি থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি হতে পারে।
অনলাইনে নামজারির আবেদন করবেন যেভাবে
নামজারির আবেদন অনলাইনে করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটের ই-নামজারি সেবা ব্যবহার করা যায়। এ জন্য কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।
প্রথমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট land.gov.bd এ প্রবেশ করে ই-নামজারি সেবার লিংক নির্বাচন করতে হবে।
এরপর নির্দেশনা অনুসারে আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করে আবেদনকারীর পরিচয়, জমির অবস্থান, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও মালিকানা অর্জনের ধরনসংক্রান্ত তথ্য পূরণ করতে হবে।
জমি কেনার মাধ্যমে নাকি উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা অর্জিত হয়েছে, তা উল্লেখ করতে হবে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের তথ্য সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে নিবন্ধিত দলিল, খতিয়ান, ওয়ারিশ সনদসহ প্রযোজ্য কাগজপত্র নির্দেশনা অনুযায়ী সংযুক্ত করতে হবে। আবেদন জমা দিয়ে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের পর পাওয়া আবেদন নম্বর বা ট্র্যাকিং তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
আবেদনের অগ্রগতি অনলাইনে অনুসরণ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাওয়া হলে নির্ধারিত নিয়মে তা জমা দিতে হবে।
আবেদনের আগে সরকারি পোর্টালে দেওয়া সর্বশেষ নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি যাচাই করে নেওয়া উচিত। জমির ধরন, নথিপত্রের যথার্থতা এবং কোনো আপত্তি রয়েছে কি না, তার ওপর আবেদন নিষ্পত্তির সময় নির্ভর করতে পারে।
নামজারি না করলে কী সমস্যা হতে পারে
জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর ভূমি রেকর্ডে মালিকানার তথ্য হালনাগাদ না করলে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও মালিকানাসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, জমি হস্তান্তর এবং মালিকানার তথ্য যাচাইয়ের সময় সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
জমি নিয়ে বিরোধ বা প্রতারণার আশঙ্কা দেখা দিলে সঠিক ও হালনাগাদ নথিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে নামজারি জমির চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারণের একমাত্র প্রমাণ নয়। নিবন্ধিত দলিল, উত্তরাধিকারসংক্রান্ত কাগজপত্র, দখল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও মালিকানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
তাই জমির মালিকানাসংক্রান্ত সব নথি সংরক্ষণের পাশাপাশি যথাসময়ে নামজারি সম্পন্ন করা জরুরি।
এমএম/