দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফ্যাটি লিভারকে অনেকে শুধু লিভারের সমস্যা হিসেবেই দেখেন। তবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলে এর প্রভাব পড়তে পারে প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপরও। চিকিৎসকের মতে, এর সঙ্গে ইনসুলিনের কার্যকারিতা ও শরীরের বিপাকীয় ভারসাম্যের সম্পর্ক রয়েছে।
ফ্যাটি লিভার এখন শুধু চল্লিশোর্ধ্বদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। বিশ ও ত্রিশের কোঠার তরুণদের মধ্যেও এ সমস্যা ধরা পড়ছে। এমনকি যারা মদ্যপান করেন না, তাদের মধ্যেও অ্যালকোহলবিহীন ফ্যাটি লিভার রোগ দেখা যাচ্ছে।
ব্যাঙ্গালুরুর বিরলা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফের প্রজনন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মঞ্জুনাথ সিএস জানান, অতিরিক্ত ওজন, পরিশোধিত শর্করা বেশি খাওয়া এবং দিনের বড় একটি সময় শারীরিকভাবে সক্রিয় না থাকাই লিভারে চর্বি জমার সাধারণ কারণ।
ফ্যাটি লিভারের একটি উদ্বেগজনক দিক হলো, শুরুতে অনেকেরই কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। ফলে রক্ত পরীক্ষা বা স্ক্যানের মাধ্যমে এ সমস্যা শনাক্ত করা হয়।
প্রজনন স্বাস্থ্যের সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের যোগসূত্র মূলত ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও বিপাকীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে লিভারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নারীদের মধ্যে পিসিওএস সাধারণ একটি সমস্যা, যা প্রায়ই ইনসুলিন প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই কারণে ফ্যাটি লিভারের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
চিকিৎসক মঞ্জুনাথ বলেন, লিভার শরীরে ইস্ট্রোজেন ও ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। লিভারে চর্বি জমলে শরীর ইনসুলিনের প্রতি আগের মতো সাড়া দিতে পারে না। তখন অগ্ন্যাশয় থেকে বেশি ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। অতিরিক্ত ইনসুলিন প্রজনন হরমোনের ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব অনিয়মিত ডিম্বস্ফোটন ও গর্ভধারণে দেরি হওয়ার মতো সমস্যায় দেখা দিতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে একই ধরনের ইনসুলিন প্রতিরোধ টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমাতে এবং শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
কিছু লক্ষণ এ ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার কারণ হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মাসিকের সময় অনিয়মিত বা অনির্দেশ্য হয়ে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা ডান পাঁজরের নিচে ভারী লাগা, মূলত পেটের চারপাশে ওজন জমা হওয়া, পরিবারে ডায়াবেটিস বা ফ্যাটি লিভারের ইতিহাস থাকা এবং কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই সন্তান ধারণে সমস্যা হওয়া।
চিকিৎসকের মতে, ফ্যাটি লিভার ও ইনসুলিন প্রতিরোধের উন্নতি প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ জন্য টেকসইভাবে ওজন কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারলে লিভারে জমা চর্বি কমতে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়তে পারে।
এর পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, চিনি কম খাওয়া এবং বিশেষ করে চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।
ফার্টিলিটি চিকিৎসা নেওয়ার সময় ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে এটিকে আলাদা একটি সমস্যা হিসেবে দেখার প্রয়োজন নাও হতে পারে। কারণ দুটির মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। লিভারের স্বাস্থ্য ও ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত হলে নারীদের মাসিকের স্বাস্থ্যও ভালো হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রেও শুক্রাণুর বিভিন্ন মানদণ্ডে উন্নতি দেখা যেতে পারে।
/অ