দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সেগুন কিংবা মেহগনি কাঠের আসবাব যে ধরনেরই হোক না কেন, শৌখিন অন্দরসজ্জায় এর আবেদন কখনোই ফুরায় না। তবে বাড়িতে কাঠের আসবাব থাকা মানেই এর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের বাড়তি দায়িত্ব। সামান্য অসাবধানতা বা অযত্নে অনেক সময় এসব আসবাবে ঘুণপোকার উপদ্রব দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে কাঠের ভেতর ফাঁপা করে আসবাবকে ব্যবহারের অনুপযোগী করে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুণপোকা সাধারণত স্যাঁতসেঁতে ও ভেজা পরিবেশে ডিম পাড়তে পছন্দ করে। তাই কাঠের আসবাব সুরক্ষিত রাখতে প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো সব সময় সেগুলো শুকনো রাখা। বিশেষ করে বর্ষাকালে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। আসবাবে কোনোভাবে পানি লাগলে তা সঙ্গে সঙ্গে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলতে হবে।
আসবাব পরিষ্কারের সময় ভেজা কাপড় ব্যবহারের বদলে শুকনো ও নরম সুতি কাপড় ব্যবহার করাই উত্তম। অনেক সময় আসবাবের গায়ে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা যায়, যা ঘুণপোকার প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে। এমন ছিদ্র চোখে পড়ামাত্র দেরি না করে মোম বা গালা দিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে আসবাবের উজ্জ্বলতা কমে গেলে কিংবা সুরক্ষার প্রয়োজনে নতুন করে বার্নিশ বা রঙের প্রলেপ দেওয়া যেতে পারে। রং বা বার্নিশের উগ্র গন্ধ ঘুণপোকা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ঘরোয়া উপায়েও ঘুণপোকার হাত থেকে আসবাব রক্ষা করা সম্ভব। নিয়মিত নিম তেল ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন কাঠের আসবাবে নিম তেল স্প্রে করে পরিষ্কার করলে পোকামাকড়ের উপদ্রব অনেকটাই কমে যায়। এছাড়া নারকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে লাগানো যেতে পারে। চায়ের ঘন লিকারের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ভিনেগার মিশিয়ে আক্রান্ত জায়গায় প্রয়োগ করলেও উপকার মেলে।
যদি কোনো আসবাবে ঘুণপোকার আক্রমণ শুরু হয়, তবে প্রথমেই সেটিকে অন্য আসবাব থেকে আলাদা করে রাখা জরুরি, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। ঘুণ ধরেছে মানেই আসবাবটি ফেলে দিতে হবে এমন ধারণা সঠিক নয়। অভিজ্ঞ কারিগরের সহায়তায় আক্রান্ত অংশ পরিবর্তন বা মেরামত করলে আসবাবটি আবারও ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে।
জে আই