দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই কঠোর ডায়েট অনুসরণ করেন, ফলে খাবার কম খাওয়া বা পছন্দের খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এতে সাময়িকভাবে ওজন কমলেও শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই ও নিরাপদ ওজন কমানোর জন্য খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর উপাদান থাকা অপরিহার্য।
পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকর ও সহজলভ্য একটি খাবার হলো ডিম। ডিমে থাকা উন্নতমানের প্রোটিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় শরীরকে পরিতৃপ্ত রাখে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরের শক্তি বাড়ায় এবং বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডিম খেলে কি ওজন বাড়ে?
অনেকের ধারণা, ডিম খেলে ওজন বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভাজা ডিমে ক্যালোরি বেশি থাকায় এই ভয় আরও জোরালো হয়। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক নিয়মে ডিম খেলে ওজন বাড়ে না, বরং মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। তাই ডিম বাদ না দিয়ে কীভাবে খাচ্ছেন, সেটাই আসল বিষয়।
ভাজা নয়, স্বাস্থ্যকর ভাবে ডিম খান
ডিম ভাজা খেতে সুস্বাদু হলেও এতে অতিরিক্ত তেল ব্যবহারের কারণে ক্যালোরি বেড়ে যায়। ওজন কমাতে চাইলে ভাজা ডিম এড়িয়ে চলাই ভালো। এর পরিবর্তে সেদ্ধ ডিম, অল্প তেলে ওমলেট বা সবজির সঙ্গে ডিম রান্না করে খেতে পারেন।
সকালের নাস্তায় ডিম জরুরি
সকালের নাস্তা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এই সময় ডিম খাওয়া শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। ডিমের সাদা অংশে থাকে উচ্চমানের প্রোটিন, যা পেশি গঠনে শক্তিশালী রাখে। ডিমের কুসুমে রয়েছে ভালো ফ্যাট, আয়রন এবং ভিটামিন, যা শরীরের শক্তি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
ডিমে আরও আছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে। কুসুমে থাকা ভিটামিন ডি হাড়কে মজবুত রাখে এবং হাড়ের রোগ প্রতিরোধে কার্যকর।
পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের নাস্তায় প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়া শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয় এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
ওজন নিয়ন্ত্রণেও ডিম গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ২-৩টি ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং বারবার ক্ষুধা লাগে না। ফলে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
ডিমে আছে যে পুষ্টিগুণ
ডিম শুধু প্রোটিনের উৎসই নয়, এতে রয়েছে ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি ও আয়রন। এসব উপাদান শরীরকে শক্তিশালী রাখে, ক্লান্তি কমায় এবং ওজন কমানোর সময় পুষ্টির ঘাটতি হতে দেয় না। ডিমের সঙ্গে পালং শাক, ক্যাপসিকাম বা টমেটোর মতো সবজি মিশিয়ে খেলে অতিরিক্ত ফাইবার ও ভিটামিন পাওয়া যায়। এতে খাবার আরও স্বাস্থ্যকর হয় এবং হজম শক্তিশালী থাকে।
ডিমের সঙ্গে ক্যাপসিকাম
পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের সঙ্গে ক্যাপসিকাম মিশিয়ে রান্না করলে তা দেখতে যেমন আকর্ষণীয় হয়, তেমনি ওজন কমাতেও সহায়ক। ক্যাপসিকামে থাকা ভিটামিন ‘সি’ শরীরের মেদ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
চিলি ফ্লেক্স যোগ করলে কী লাভ
অনেকেই ওমলেটে চিলি ফ্লেক্স দিতে পছন্দ করেন। ওজন কমানোর যাত্রায় এটি ভালো সাহায্য করতে পারে। মরিচ বা চিলি ফ্লেক্স শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে ফ্যাট বার্নিং প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে।
কোন তেল ব্যবহার করবেন
ডিম ভাজার ক্ষেত্রে সয়াবিন তেল এড়িয়ে চলাই ভালো। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এর বদলে অল্প পরিমাণ সরিষার তেল বা নারিকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
কুসুমসহ ডিম খান
প্রতিদিন একটি ডিম কুসুমসহ খাওয়া নিরাপদ। তবে যদি একের বেশি ডিম খান, সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খাওয়াই ভালো।
জে আই