দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বর্তমান সময়ে ডায়েট একটি অতি পরিচিত শব্দ। জীবনে একবার দুইবার ডায়েট আমরা অনেকেই করেছি। সাধারণত ওজন কমানোর জন্য খাবারের তালিকায় ক্যালোরির সংখ্যা সীমিত করাকে ডায়েট বোঝানো হয়ে থাকে। আবার স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়ানোর জন্যও অনেকে ডায়েট করে থাকেন।
আমাদের লাইফস্টাইল এখন এমন হয়েছে যে সকলের শরীরে লক্ষ্য করা যায় বাড়তি ওজন। কারণ বেশিরভাগ মানুষেরই রোজ নিয়ম করে বাইরে খাওয়া হয়, যাতে থাকে অতিরিক্ত তেল মসলা। আবার খাওয়া অনুযায়ী শারীরিক পরিশ্রমও তেমন হয় না। নেই ঘুমের কোনো নিয়ম। ফলাফল বাড়তি ওজন। অনেকে বাড়তি ওজন কমানোর জন্য ব্যায়াম কিংবা জিমে জয়েন করেন। কিন্তু, ওজন কমাতে ডায়েটের ভূমিকা ৭০% আর বাকি ৩০% ব্যায়াম ও অন্যান্য জীবনব্যবস্থা হওয়ায়, বেশিরভাগ মানুষ দ্রুত ওজন কমানোর জন্য ডায়েট করাকেই বেঁছে নেন।
তবে ডায়েট করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। সব ধরণের ডায়েট সবার জন্য উপযোগী নয়। উপযুক্ত ডায়েট চার্ট ফলো না করা হলে, এটি শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। কোনো ডায়েটে যাবার আগে অবশ্যই নিজের শরীরের পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। আমাদের দেশে কয়েক ধরণের ডায়েট বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যেমন, ইন্টারমিটেড ফাস্টিং, ওমাড ও কিটো ডায়েট। অনেকেই এগুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে না জেনে নিজের ক্ষতি ডেকে আনছেন।
ইন্টারমিটেড ফাস্টিং, এই ডায়েটের নিয়ম হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ ঘণ্টা খাওয়াদাওয়া করা ও বাকি ১৬ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা৷ তবে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগলে চিনি ছাড়া দুধ খাওয়া হয়। অনেকে এই ডায়েট করার সময় একটা ভুল করেন তা হলো, ৮ ঘণ্টা খাওয়ার সময় অতিরিক্ত ক্যালরি খাবার খেয়ে ফেলেন৷ ফলে ফাস্টিং করার পরেও তেমন কোন লাভ হয় না।
কিটো ডায়েটের নাম শোনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল৷ এ ডায়েটে শর্করার পরিমাণে কম ও চর্বি পরিমাণে বেশি অর্থাৎ ৭০% গ্রহণ করতে হয়। এই ডায়েট করলে খুব দ্রুত ওজন হ্রাস পায়। চিকিৎসকরা মূলত মৃগী বা এপিলেপসি রোগীদের এই ডায়েট করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
তবে এই ডায়েটে অতিরিক্ত চর্বি গ্রহণ করার কারণে কিডনিতে সমস্যা, হজমশক্তি কমে যাওয়া, হৃদরোগ, পিত্তথলিতে পাথর সহ নানাধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বেশি প্রোটিন ও চর্বির গ্রহণের জন্য ত্বকে ফুসকুড়ি, ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট ও ডায়রিয়া হওয়ার কারণে শরীর দুর্বল হয়ে কর্মক্ষমতা কমে যায়।
এই সকল ডায়েট সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। এগুলো ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীরের অনেক ক্ষতি করে থাকে।
গবেষণায় জানা যায়, দীর্ঘস্থায়ী ডায়েটকারীরা ক্রমাগত অপরাধবোধ এবং আত্ম-দায়িত্ব, বিরক্তি, উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতা, মনোযোগ দিতে অসুবিধা, ক্লান্তি ইত্যাদি সমস্যায় ভোগেন। তাই চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া এসকল ডায়েটকে অনুসরণ না করে নিজের শরীরের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ সুঠম খাদ্যাভ্যাস ও পাশাপাশি হাঁটা এবং ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
এস