দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গরম আসলেই বেড়ে যায় সাপের উপদ্রব। বর্ষা মৌসুমে এবং বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষের মতো সাপও বাস্তুহীন হয়ে পড়ে। যার কারণে যেখানে সুযোগ পায়, সেখানেই আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে এ সময়টায় সাপে কাটার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে এ বছর রাসেল ভাইপার সাপ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আতঙ্ক। এখন প্রায়ই সাপে কামড় দেওয়ার ঘটনা শোনা যাচ্ছে।
তবে এক্ষেত্রে কী করা উচিত এবং কোন বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকতে হবে তা অনেকেরই অজানা। অনেক সময় সচেতনতার অভাবে সাপে কামড় দিলে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।
বেসরকারি সংস্থা ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন বলছে রাসেলস ভাইপার মোটেও দেশের সবচেয়ে বিষধর কিংবা প্রাণঘাতী সাপ নয়। বরং দেশে প্রতি বছর সাপের কামড়ে যত লোক মারা যায় তার অর্ধেকই মারা যায় পাতি কেউটে সাপের কামড়ে। তবে সময়মত চিকিৎসা না নিলে রাসেলস ভাইপারের কামড়েও মৃত্যু হতে পারে।
সাপের কামড়ালে কী করতে হবে সে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডা. ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান বিষধর সাপের কামড়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৃত্যুর মূল কারণ সচেতনতার অভাব। ওঝা বা বেদের মাধ্যমে অবৈজ্ঞানিক উপায়ে চিকিৎসা করতে গিয়ে অনেকেই বিপদে পড়েন। এমনকি রোগীকে হাসপাতালে আনতে বিলম্ব করার কারণেও অনেক প্রাণ অকালে ঝরে যায়।
১. সাপ কামড় দিলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হবে। একটি লম্বা কাঠ ও কাপড়ের সাহায্যে আক্রান্ত স্থানটি বেঁধে ফেলুন। খুব বেশি শক্ত করে বাঁধবেন না, এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনভাবে বাঁধতে হবে, যেন আক্রান্ত অঙ্গ ও কাপড়ের মাঝে কষ্ট করে একটি আঙুল ঢোকানো যায়।
২. যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যেতে হবে। সাপ কামড় দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসা নিলে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
৩. বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজে এবং কিছু কিছু জেলা সদর হাসপাতালে সাপের বিষের প্রভাবপ্রতিরোধী ওষুধ (অ্যান্টিভেনোম) মজুত রয়েছে। এটিই বিষধর সাপে কাটা রোগীর জন্য একমাত্র চিকিৎসা। রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে এলে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রয়োজনও হতে পারে। মনে রাখবেন, এসব চিকিৎসা শুধু হাসপাতালেই করানো সম্ভব, অন্য কোথাও নয়।
৪. আক্রান্ত স্থানে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলে, রক্তক্ষরণ হলে, চোখের পাতা পড়ে গেলে, ঘাড় শক্ত রাখতে না পারলে, হাত-পা অবশ হয়ে এলে ও শ্বাসকষ্ট হলে একটুও দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
৫. সাধারণত নির্বিষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত স্থানে সামান্য ব্যথা, ফুলে যাওয়া বা অল্প ক্ষত সৃষ্টি হয়ে থাকে। তবে এসব লক্ষণ থাকলেও ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়, যেকোনো রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।
১. দড়ি দিয়ে খুব শক্ত করে বাঁধা।
২. আক্রান্ত স্থান কাটা।
৩. অ্যান্টিহিস্টামিন ইনজেকশন প্রয়োগ করা।
৪. আক্রান্ত স্থান থেকে মুখের সাহায্যে রক্ত বা বিষ টেনে বের করার চেষ্টা করা।
৫. আক্রান্ত স্থানে গোবর, শিমের বিচি, আলকাতরা, ভেষজ ওষুধ বা কোনো প্রকার রাসায়নিক লাগানো।
এস