দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঈদ আনন্দ বিনিময় করতে ‘ঈদ কার্ডের’ কোন বিকল্প ছিল না। ঈদে প্রিয় জন, আপন জন, বন্ধু-বান্ধব, প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শুভেচ্ছা জানাতে নানা রংয়ের ঈদ কার্ড দেওয়া হতো। নতুন প্রজন্মের কাছে ‘ঈদ কার্ড’ অপরিচিত হয়ে গেছে। অনেকে জানে না ঈদ কার্ড কেমন ছিল। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ‘ঈদ কার্ড’ বিলুপ্তির পথে।
দিন বদলের ব্যবধানে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় লেগেছে শুভেচ্ছা বিনিময়ে। হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), ফেসবুক, আরএমএমএস ও ই-মেইল এর ভিড়ে হারিয়ে গেছে ঈদ কার্ডে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সংস্কৃতি। মুহূর্তের মধ্যে হাজারো বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের শুভেচ্ছা ও ঈদ শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। যেন দামি ভাল বাসায় ‘সস্তা’ শুভেচ্ছা বিনিময়।
নব্বই দশকের শেষের দিকেও ঈদ উপলক্ষে ঈদ কার্ড সংগ্রহ করতে বাবা-মায়ের আছে আবদার করা হতো। আপনজনদের ঈদ কার্ড দিতে হবে। অনেকে ঢাকায় গিয়ে আজাদ প্রোডাক্টস, আইডিয়াল প্রোডাক্টস থেকে ঈদ কার্ড নিয়ে এসে পাড়া-মহল্লায় পসরা সাজিয়ে বসতো। ঈদ সামনে করে কার্ডের দোকানে-দোকানে গিয়ে বিভিন্ন রংয়ের জড়ি মাখানো ঈদ কার্ড সংগ্রহ করতে করতে ঈদের আনন্দ উপভোগ হতো। ঈদ কার্ড প্রিযজন না দিতে পারার যন্ত্রনা বুঝানো যেন না। এযেন কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিঁটা।
তবে আধুনিকতায় ছোঁয়ায় এই প্রজম্মের ছেলে-মেয়েরা ঈদ কার্ডের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মূল্যে বুঝে না। অনেকে জানে না। ঈদ কার্ড-শুভেচ্ছা কার্ড কেমন ছিল। কেউ জানলেও অলসতার কারণে ঈদ কার্ডে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন না। সহজ পদ্ধতিতে মোবাইলের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। ফ্যাশন হিসেবে অনেকে হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), ফেসবুক, আরএমএমএস এর মাধ্যমে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।
এখন বাবার পকেট থেকে টাকা চুরি করে কেউ ঈদ কার্ড ক্রয় করে না। রাত জেগে রঙ্গিন কলম দিয়ে আর্ট পেপারে হাতের লেখায় ঈদ কার্ড কেউ লেখে না। এখন সহজ ভালবাসা, সহজ ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়। বন্ধুর জন্য হাতে বানানো রঙিন ঈদ কার্ড এখন ইতিহাস। ঈদ ঘিরে ছাপাখানায় শুরু হতো ঈদ কার্ড বানানোর কর্মযজ্ঞ। এখন সেখানেও পড়েছে ভাটার টান। একটি সময় দেশের বিভিন্ন শহর, মফস্বল, পাড়া-মহল্লা, অলিতে-গলিতে ছোট-ছোট ঈদ কার্ডের দোকান দেখা যেত। পাওয়া যেত ঈদ কার্ড। বর্ণিল ডিজাইন আর বাহারি রঙের ঈদ কার্ডে আঁকা থাকতো গম্বুজ, মিনারের উপর চাঁদ-তারা, লাল গোলাপ বা কোলাকুলির চিত্র। মোটা অক্ষরে লেখা ‘ঈদ মোবারক’ দ্বিগুণ করে দিত ঈদের আনন্দ।
কার্ডগুলোতে শুভেচ্ছা বার্তার পাশাপাশি ফুল, পাখি, প্রাকৃতিক দৃশ্য, মসজিদ, মক্কা শরীফের ছবিসহ বিখ্যাত তারকাদের ছবিও থাকতো। এছাড়া ছোটদের জন্য নানা মজার মিনি কার্ড ছাপানো হতো। জনপ্রিয় সব কার্টুন চরিত্র থাকত মিনি কার্ডগুলোতে। কিন্তু এখন হারিয়েছে ঈদ কার্ড। জৌলুস নেই ঈদ কার্ডের।
এমএ