দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফল শরীরের যত্ন নেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন অন্তত একটি করে ফল খাওয়া উচিত। শরীর ও ত্বক দুটিই ভালো থাকে। ওজন কমাতেও ফল বেশ উপকারি।
ফল তাজা রাখার জন্য সাধারণত আমরা ফ্রিজে সংরক্ষণ করি। এর ভেতরের নিম্ন তাপমাত্রা খাবার নষ্ট হওয়া রোধ করে এবং বেশিদিন ভালো রাখে। কিন্তু কিছু ফল আছে, যেগুলো ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। কারণ এতে ফলের স্বাদ, গঠন এবং পুষ্টির মানে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। চলুন সেসব ফলের নাম জেনে নেওয়া যাক-
কলা কখনোই ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। ফ্রিজে রাখা হলে কলার খোসা কালো হতে শুরু করে, যা অনেকে বিশেষ করে শিশুরা খেতে নাও চাই পারে। আবার ফ্রিজে রাখা কলা দ্রুত পাকে না। তাই সতেজতা এবং স্বাদের জন্য এই ফল ঘরের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বেশিরভাগ বাড়িতে আপেল ফ্রিজে রাখা হয়। এ কারণে এটি দ্রুত নষ্ট হয় না। বরং এর পুষ্টিগুণ কমে যায়। তাই আপেল ফ্রিজে রাখবেন না। দীর্ঘ সময়ের জন্য নষ্ট হওয়া এড়াতে আপেলগুলোকে কাগজে মুড়িয়ে রাখুন।
তরমুজ তাড়াতাড়ি নষ্ট হওয়া ঠেকাতে অনেকেই ফ্রিজে রাখার ভুল করে থাকেন। এটি করলে এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কমে যায় এবং এর পুষ্টিগুণও কমে যায়। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা ফ্রিজে তরমুজ সংরক্ষণ না করার পরামর্শ দেন।
রেফ্রিজারেটরে পেঁপে সংরক্ষণ করলে এর স্বাদ এবং গঠন পরিবর্তন হতে পারে। এটি ঘটে কারণ রেফ্রিজারেটরের নিম্ন তাপমাত্রা পেঁপে পাকার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। তাই সম্পূর্ণ পাকা না হওয়া পর্যন্ত পেঁপে ফ্রিজে রাখা এড়িয়ে চলুন।
লিচুর মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে লিচু কিনে সেগুলো সতেজ রাখতে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন অনেকেই। এটি শুধুমাত্র খোসার সতেজতা বজায় রাখে, তবে লিচু ভেতর থেকে নষ্ট হতে পারে। তাই লিচু ফ্রিজে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো এগুলিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য তাজা রাখতে পানিতে সংরক্ষণ করা।
ফ্রিজে আনারস সংরক্ষণ করলে এর গঠন এবং স্বাদের অবনতি হতে পারে। তাই ফ্রিজে না রাখাই ভালো। রেফ্রিজারেশনের ফলে ফলটি খুব নরম হয়ে যায়, যার ফলে এর প্রাকৃতিক স্বাদ পরিবর্তন হয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনারস সংরক্ষণ করলে তা সতেজতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং এর বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন প্রতিরোধ করে। তবে আনারস পুরোপুরি পেকে গেলে তা যাতে বেশি নরম না হয় তার জন্য কয়েকদিন ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন।
ফ্রিজে আম সংরক্ষণ করার ভুল করবেন না, কারণ ঠাণ্ডা তাপমাত্রা এই ফল পাকানোর প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে এবং স্বাদ এবং গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে। আমের সম্পূর্ণ স্বাদ এবং রস উপভোগ করার জন্য ঘরের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা ভালো।
ফ্রিজে রাখলে কমলা শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং রসালো ভাব হারাতে পারে। ঘরের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করলে তা কমলার স্বাদ এবং সতেজতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও রেফ্রিজারেশন কমলার স্বাদ হ্রাস করতে পারে, যা খেতে খুব একটা স্বাদ লাগে না।
যে কোনও লেবুতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে। ফ্রিজের তাপমাত্রা অত্যন্ত কম থাকায় লেবুর অ্যাসিডিক গুণ নষ্ট হয়। ফ্রিজের কৃত্রিম ঠাণ্ডায় কমলালেবুর খোসা ও লেবুর শাঁস শুকিয়ে যায়। অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় সেগুলো খারাপ হয়ে বিষাক্ত হয়ে পড়তে পারে। তাই লেবু কখনও ফ্রিজে রাখবেন না।
ফ্রিজে রাখলে নাশপাতি নরম হয়ে যায়। পচন ধরেও তাড়াতাড়ি। পুষ্টিগুণ কমে যাওয়ার সঙ্গে এই ধরনের নাশপাতিতে বিষক্রিয়াও হতে পারে।
কলার মতো অ্যাভোকাডোও ফ্রিজে রাখবেন না। পাকতে না পেরে খুব তাড়াতাড়ি পচন ধরে যায় এতে।
আধা পাকা পেঁপে পেরে রেখেছেন, পাকার জন্য যদি তা ফ্রিজে রাখেন তাইলে হিতে বিপরীত হবে। তাড়াতাড়ি পাকাতে চাইলে বরং গরম কোনো জায়গায় বা গরম কোনো কিছুর মধ্যে রাখুন।
এস