দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পুরো বছরের মধ্যে শীতকাল অনেকটাই ভিন্ন। আবহাওয়াজনিত কারণে এ সময় ত্বক ও চুল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি রুক্ষ হয়ে যায়। চেহারা দেখায় শুষ্ক ও অনুজ্জ্বল। বছরের অন্যান্য সময়ের থেকে শীতের সময়টা নিজের ত্বক ও চুলে চাই বাড়তি যত্ন। কারণ একটু অবহেলায় চুল হয়ে ওঠে প্রাণহীন, ত্বক রুক্ষ ও ঠোঁট কালচে।
শীতের যত্ন বলতে অনেকে মনে করে শুধু মুখের ত্বকে, আসলে তা নয়। শীতের সময় শরীরের প্রতিটি অংশের ত্বকেই সমানভাবে যত্ন নিতে হবে। আসুন তাহলে আজ জেনে নেওয়া যাক কেমন হবে আপনার শীতের রূপচর্চা।
শীতের সময় সবার কমবেশি ঠোঁট ফেটে যাওয়ার সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। অনেকের শীত ছাড়া বারো মাস ঠোঁট ফেটে থাকে। তবে শীতের সময় এ সমস্যা আরও বেড়ে যায়। ঠোঁট ফাটা থেকে বাঁচতে নিয়মিত ভ্যাসলিন ব্যবহার করা সবচেয়ে সহজ সমাধান। তাছাড়া মধু ও চিনি মিশিয়ে ঠোঁটে ম্যাসাজ করতে পারেন, এতে ঠোঁটের মরা চামড়া উঠে আসবে। ঠোঁটকে ময়েশ্চারাজড রাখতে ভালো মানের একটি লিপ-বাম ব্যবহার করুন।
শীত আসলে অনেকেই পানি কম পান করেন। শরীর যখন পানি কম পায় তখন প্রথমে ঠোঁট থেকে পানি শুষে নেয়। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। ডাবের পানি ও ফ্রেশ ফলের জুসও খাওয়া যেতে পারে।
শীতের সময় আমরা নিয়মিত গোসল করতে ভয় পাই, কিন্তু তা করা একদম উচিত নয়। নিয়মিত গোসল করতে হবে, গোসলের পর শরীরে ভালো করে অলিভ ওয়েল ম্যাসাজ করে নিতে পারেন। যুগ যুগ ধরে ত্বকের যত্নে জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করা হচ্ছে কিংবা খাঁটি নারকেল তেলও দেওয়া যেতে পারে।
শীতে অনেকের পা ফেটে যায়। এমনকি ফেটে রক্ত বের হতে পারে তাই পায়ের গোড়ালিতে গ্লিসারিন অথবা নারকেল তেল দিতে পারেন। এছাড়া সপ্তাহে যেকোনো একদিন ঝামা পাথর দিয়ে পা ঘষে পরিষ্কার করুন, এতে পায়ের গোড়ালির মরা চামড়া উঠে আসবে। এছাড়া ঘরোয়া কিছু প্যাক বানিয়ে আপনি শীতে নিজের যত্ন নিতে পারেন। পাকা কলা চটকে তাতে মধু মিশিয়ে কিছুক্ষণ হাতে পায়ে লাগিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এতে ত্বক অনেক বেশি কোমল হবে।

শীতের সময় ফ্যাংগাল ইনফেকশন অনেক বেড়ে যায় সেক্ষেত্রে হলুদ ও নিমপাতা বেটে শরীরে কিছুক্ষণ রেখে গোসল করে নিতে পারেন। হলুদ যেকোনো ব্যাকটেরিয়া থেকে লড়াই করতে সাহায্য করে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
মশ্চারাইজারের গুরুত্ব সম্পর্কে এখন সবাই কম বেশি জানে, বারো মাস মশ্চারাইজার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে শীতে ত্বকের মশ্চারাইজারের চাহিদা আরও বেশি বেড়ে যায়। তাই যখন পানির সংস্পর্শে যাওয়া হবে সঙ্গে সঙ্গে মশ্চারাইজার পুনরায় ব্যবহার করতে হবে। এটা আমাদের ত্বককে মসৃণ রাখে ও আদ্রতা দেয়।
শীত আসলে অনেকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়। অনেকে মনে করে শীতে তেমন রোদের প্রকোপ থাকে না তাই সানস্ক্রিন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আসলে ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল মশ্চারাইজার এর মত সানস্ক্রিনও বারো মাস লাগাতে হবে। সানস্ক্রিন ব্যবহার না করার ফলে শীতকালেও অনেকে সানবার্নের মত সমস্যা দেখা দেয়। সান বার্নের সমস্যা দেখা দিলে টমেটোর রস মুখে লাগাতে পারেন। টমেটো রস ত্বকের রোদে পোড়া দাগ কমাতে সাহায্য করে।
ত্বকের মতো শীতের সময় চুলের ও নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। এসময় বেশিরভাগ মানুষের চুল নিষ্প্রাণ হয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি দেখা দেয় খুশকির সমস্যা ও চুল পড়া। খুশকি সমস্যা এড়াতে অনেকে প্রতিদিন শ্যাম্পু করেন কিন্তু শ্যাম্পু করার ফলে চুল হয়ে ওঠে আরও রুক্ষ। কারণ প্রতিদিন শ্যাম্পু করার ফলে চুলের প্রাকৃতিক তেল কমে যায়। খুশকির সমস্যা দেখা দিলে চুল পড়া শুরু করে। তাই শীতে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন চুলে নারকেল তেল ব্যবহার করে শ্যাম্পু করতে হবে। নারকেল তেলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে নিলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। এছাড়া পেঁয়াজের রস চুলের জন্য বেশ উপকারী। নিয়মিত ব্যবহারের ফলে চুলের খুশকি কমে।
শীতকালে চুল রুক্ষ ও আগা ফাটা বেড়ে যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শীতের রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুলে নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল গরম করে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ঘুমিয়ে যান। সারারাত চুলে তেলের উপস্থিতিতে চুলের রুক্ষভাব কেটে যাবে এবং চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে উজ্জ্বল।
শীতের সময় নিজের বাড়তি যত্ন নেওয়াটা জরুরি হয়ে পরে কারণ আবহাওয়ার আদ্রতা কমে যায় এবং এর প্রভাব আমাদের ওপর পড়তে থাকে। তাই ব্যস্ত দিনের কিছুটা সময় বের করে নিজের যত্ন নিন।
এস/জেডএ