দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বর্তমান সময়ে যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো মোবাইল ফোন। বেশিরভাগেরই সাধারণ স্বভাব প্যান্টের পকেটে মোবাইল ফোন রাখা। কিন্তু সেই অভ্যাসের ফল মারাত্মক হতে পারে বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা। এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার পুরুষদের বন্ধ্যত্বের অন্যতম কারণ।
আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে এই মোবাইল। সকালে ঘুম থেকে উঠেই হাতে মুঠোফোন নিয়ে ফেসবুক, হোয়াট্সঅ্যাপ, মেলবক্স— সবকিছুতেই চোখ বুলিয়ে নেওয়া দরকার। দেশ-দুনিয়ার কোনো কিছুই যেন চোখ এড়িয়ে না যায়, তাই ছুটির দিনেও ফোনটিকে হাতছাড়া করতে পারেন না।
সাধারণত বুক পকেটে ফোন রাখা সম্ভব নয়। কারণ, যেখানেই যাতায়াত করতে যান না কেন, তাতে ফোন চুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু তার বদলে যদি প্যান্টের পকেটে নিয়মিত ফোন রাখার অভ্যাস থাকে, তাহলে আরও বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে পুরুষরা। সমস্যাটা বিশেষত পুরুষদের হতে পারে বলে জানাচ্ছে গবেষণা।
ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার যে চোখের ক্ষতি করে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। দীর্ঘক্ষণ ঘাড় গুঁজে ফোন দেখলে ঘাড়, পিঠের ব্যথা, মেরুদণ্ডের সমস্যাও হতে পারে। তবে, সাম্প্রতিক গবেষণা যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তা আরও ভয়ঙ্কর। ‘ফার্টিলিটি অ্যান্ড স্টেরিলিটি’ জার্নালে প্রকাশিত তথ্য বলছে, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা ২০ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনযাপন ও পরিবেশের পরিবর্তনের ফলে বিগত ৫০ বছর ধরে শুক্রাণুর মান ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় মোবাইল ফোনের ব্যবহারও অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে।
এক গবেষক জানাচ্ছেন, পুরুষদের মধ্যে বন্ধ্যত্বের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্ভবত এই ধরনের যন্ত্র থেকে নির্গত রেডিয়োফ্রিকোয়েন্সি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড। যা প্রজননের উপর বিশেষ ভাবে প্রভাব ফেলে। জেনিভা বিশ্ববিদ্যালয়, সুইস ট্রপিক্যাল অ্যান্ড পাবলিক হেল্থ ইন্সটিটিউট প্রায় তিন হাজার জন পুরুষের উপর এই সংক্রান্ত একটি সমীক্ষা করেন। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রত্যেকেরই বয়স ১৮ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। প্রত্যেকের কাছে গবেষকেরা জানতে চেয়েছিলেন, তাদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার কেমন এবং দেহের কোন অংশের সংস্পর্শে ফোনটি থাকে। অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া উত্তরের ভিত্তিতেই গবেষকেরা জানিয়েছেন, যারা সারা দিনে ২০ বারের বেশি ফোন স্পর্শ করেন, তাদের মধ্যে ২১ শতাংশেরই শুক্রাণুর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে কম।
এস