দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আধুনিকায়নের যুগে পরিবেশ দূষণ বেড়েছে অনেক বেশি। এজন্য ঘরের বাতাসকে দুর্গন্ধমুক্ত এবং সতেজ রাখতে ব্যবহার করা হয় এয়ার ফ্রেশনার। তবে এতেও রয়েছে রাসায়নিক পদার্থ। খোলা চোখে দেখা না গেলেও নিজের অজান্তেই ঘরোয়া দূষণেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অনেকেই। বিল্ডিং বানানোর উপাদান থেকে শুরু করে এয়ার ফ্রেশনার সবকিছুতেই রয়েছে রাসায়নিক পদার্থ। সতর্ক না থাকলে ঘরের আবহাওয়া বিষাক্ত হয়ে ওঠা অসম্ভব নয়।
শীত পড়তে না পড়তেই বাতাসে দূষণের মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে নিজের পরিসরটুকু যদি দূষণমুক্ত রাখা যায়, সেই চেষ্টা করেন সবাই। এই উদ্দেশ্যে অনেকেই ‘এয়ার পিউরিফায়ার’ বা বায়ু পরিশোধক যন্ত্র কিনে ব্যবহার করেন। তবে সেই সব যন্ত্র যথেষ্ট ব্যয়বহুল। তাই সবার পক্ষে এয়ার পিউরিফায়ার কেনা সম্ভব না-ও হতে পারে। কিন্তু পরিবেশবিদেরা বলেন, প্রাকৃতিক উপায়েই ঘরের বাতাস দ্রুত নির্মল করে ফেলা যায়। দরকার বিশেষ কয়েকটা গাছ। ঘরের ভেতরের গাছ দিনের আলোয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনে পরিণত করে। শুধু তাই নয়, কোনো কোনো গাছ বেনজিন ও ফরমালডিহাইডের মতো দূষিত পদার্থকেও বাতাস থেকে টেনে নেয়।
ঘরের মধ্যে প্রাণ ভরে শ্বাস নিতে যেসব গাছ রাখা যেতে পারে:
অ্যালোভেরা:
অ্যালোভেরা সাকিউলেন্ট বা ক্যাকটাস জাতীয় গাছ। অর্থাৎ অল্প জলে, শুকনো আবহাওয়াতেও অ্যালোভেরা ভালো থাকে। টবে ক্যাকটাস সয়েল অথবা সাধারণ মাটি ভরে দিন। খেয়াল রাখুন যেন প্রতিটি টবেই বেশ কয়েকটি করে গর্ত বা ড্রেনেজ হোল থাকে। কারণ মাটি অতিরিক্ত পানি ধারণ করলে অ্যালোভেরা গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
স্পাইডার প্লান্ট:
এই গাছ ঘরের ভেতরে বাঁচানো খুব সহজ। ফরমালডিহাইড ও জাইলেনের মতো দূষিত পদার্থ বাতাস থেকে টেনে নেয় এই গাছ। শিশু ও পোষ্যরাও নিরাপদ এই গাছ থেকে।
স্নেক প্লান্ট:
খুব কম পানিতে বেঁচে থাকে এই গাছগুলো। খুব বেশি আলোরও প্রয়োজন নেই এদের। তাই ঘরের কোণে যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেখানেও রাখতে পারেন এই গাছগুলো। সপ্তাহে একদিন বা কোনো কোনো সময়ে ১০ দিনে একবার পানি দিলেও চলে।
পিস লিলি:
সামান্য যত্নেই বেঁচে থাকতে পারে এই গাছ। তবে কড়া রোদ আসে, ঘরের এমন জায়গায় এই গাছ না রাখাই ভালো। মাটি একটু ভেজা ভেজা থাকলে এই গাছ খুব ভালো থাকে। সারা বছর ধরেই এই গাছে সাদা ফুল হয়, যা এই গাছের জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় কারণ। সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলার পাশাপাশি ঘরের বাতাস পরিশুদ্ধ রাখতেও সাহায্য করে এই গাছ।
অ্যান্থুরিয়াম বা ফ্ল্যামিংগো লিলি:
ঘরের যেকোনো জায়গায় রাখা যায় এই গাছ। আলো ভালোবাসে এই গাছ। সারা বছর লাল রঙের ফুল ফোটে। পিস লিলির মতো এর মাটিও একটু ভেজা রাখতে পারলে ভালো হয়। বাতাস থেকে বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থ শোষণ করে নিতে পারে এই গাছ।
এস/এইউ/এও