দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ধূমপানের বিকল্প হিসেবে ভেপিং বা হুক্কাকে অনেকেই তুলনামূলক কম ক্ষতিকর মনে করেন। কিন্তু ধোঁয়া বা বাষ্পের মাধ্যমে শরীরে আসলে কী প্রবেশ করে, তা নিয়ে অনেকেরই তেমন সচেতনতা নেই।
ভারতীয় পুষ্টিবিদ নামি আগরওয়াল ভেপিং ও হুক্কার বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি তুলে ধরে জানিয়েছেন, এগুলোকে নিরাপদ বিকল্প মনে করার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। তার মতে, এসব অভ্যাস শরীরের ভিন্ন অঙ্গের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
ফুসফুসে ক্ষতি
বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং অতি সূক্ষ্ম কণা শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এসব উপাদান ফুসফুসের গভীরে পৌঁছে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে।
নিয়মিত ব্যবহারে শ্বাসনালিতে জ্বালাপোড়া ও ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ধূমপানের তুলনায় কম ক্ষতিকর মনে হলেও এগুলোকে নিরাপদ বলা যায় না।
ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ
ভেপিং ও হুক্কার মাধ্যমে শরীর বিভিন্ন রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসে। ভেপিংয়ে তরল রাসায়নিককে উত্তপ্ত করে বাষ্প তৈরি করা হয়। অন্যদিকে হুক্কায় তামাক পোড়াতে কয়লা ব্যবহার করা হয়।
এই প্রক্রিয়ায় তৈরি বাষ্প বা ধোঁয়ার সঙ্গে শরীরে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান প্রবেশ করতে পারে।
নিকোটিনের ঝুঁকি
অনেকে মনে করেন, ভেপের বাষ্প বা হুক্কার ধোঁয়া পানি বা ফিল্টারের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব কমে যায়। কিন্তু বাস্তবে পানি বা ডিভাইসের ফিল্টার নিকোটিনকে পুরোপুরি আটকে দিতে পারে না।
ফলে শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নিকোটিন প্রবেশ করত পারে। অতিরিক্ত নিকোটিন হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্নায়ুতন্ত্রে ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকি
ভেপিং বা হুক্কা শুধু ব্যবহারকারীর জন্যই উদ্বেগের বিষয় নয়। এসব নির্গত বাষ্প ও কালো ধোঁয়া আশপাশের বাতাসেও ছড়িয়ে পড়ে।
ফলে কাছাকাছি থাকা অধূমপায়ীরাও সূক্ষ্ম কণা, ভারী ধাতু এবং বিভিন্ন রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসতে পারেন।
দুর্ঘটনা ও আগুনের ঝুঁকি
ভেপিং ডিভাইসে সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থাকে। ব্যাটারিতে ত্রুটি, অতিরিক্ত গরম হওয়া বা নিম্নমানের যন্ত্র ব্যবহারের কারণে বিস্ফোরণ ও আগুনের মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অন্যদিকে হুক্কায় জ্বলন্ত কয়লা ব্যবহারের কারণে আগুন লাগা বা শরীর পুড়ে যাওয়া এবং কার্বন মনোক্সাইড বিক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
কেএম