দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মামলা, সাংবিধানিক উপায়ে অপরাধী ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনার প্রথম ধাপ। অপরাধ কিংবা হয়রানিমূলক যেকোন বিষয়ে পুক্ত তথ্য প্রমাণ থাকলে, ভুক্তভোগীরা থানা অথবা আদালতে দোষীদের নামে মামলা দ্বায়ের করতে পারেন। পরবর্তিতে মামলার উপর ভিত্তি করে, নেয়া হয় আইনানুগ ব্যবস্থা। তবে এই ব্যবস্থায় অপরাধীর পাশাপাশি অনেক সময় হেনস্তা হতে হয় ভুক্তভোগী ও মামলার বাদীকেও। তারই অন্যতম উদাহরণ, দেশের চলমান পরিস্তিতি। যেখানে ছাত্র-জনতার গণ্য অভ্যুথানে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, দেশজুড়ে দ্বায়ের হচ্ছে হাজারো মামলা। আর এসব মামলায় নামে বেনামে একাধিক মানুষকে জড়ানো হচ্ছে, গুম খুন ও হত্যার অভিযোগে।
ছাত্র জনতার জুলাই বিপ্লবে নিহত হয়েছেন অনেক মানুষ। সরকার পতনের পর, এসব নিহতের ঘটনায় দ্বায়ের করা হচ্ছে একাধিক মামলা। তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিহতের পরিবার ও স্বজনরা জানেন না, তাদের আপনজনের হত্যার জন্য দ্বায়ী আসলে কে। সেক্ষেত্রে অজ্ঞানামা মামলাই একমাত্র উপায়, তবুও প্রতিটি মামলায় আসামিভুক্ত করা হচ্ছে একাধিক ব্যক্তিকে।
গত ১৯ জুলাই পল্টনের বটতলায় নিহত হন রিকশাচালক কামাল মিয়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ও স্বামীকে হারিয়ে অনেকটা দিশেহারা স্ত্রী ফাতেমা। স্বামীর হত্যার বিচার করতে, ফাতেমা নিজেই বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। তবে নিহতের স্ত্রী ফাতেমার করুণ পরিস্তিতিতে, সুযোগের সৎ ব্যবহার করতে বর্তমানে অনেকেই তাকে নানা প্রলোভন দিচ্ছেন। যেখানে তার অুনমতি নিয়ে, একাধিক আসামিকে যুক্ত করে নতুন করে মামলা করতে দিলে, তার মেয়েকে ভালো চাকরির সুযোগ করে দিবে বলেও একটি মহল আশ্বাস দেয়। মামলা করার জন্য অপরিচিত মানুষের এমন আগ্রহে স্ত্রী ফাতেমা বলেন, এসব মানুষের স্বার্থ কী?। এছাগা যারা দোষী না, তাদের কেন মামলায় জড়াব।
এদিকে নিহতের স্ত্রী ফাতেমার অনুমতি ছাড়াই, গত ৩০ অক্টোবর শাহরিয়া শুভ নামে এক ব্যক্তি, ফাতেমার স্বামী কামাল মিয়া হত্যার ঘটনায়, ২৮১ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। অথচ কামালের স্ত্রী এই মামলা সম্পর্কে কিছুই জানেন না, এমনকি শুভ শাহরিয়ার নামে কোনো ব্যক্তিকেও তিনি চিনেন না।
মামলা দিয়ে নিজের স্বার্দ হাসিল করার জন্য একমাত্র ফাতেমাই নয়, বরং জুলাই বিপ্লবে নিহত সকল পরিবকারকেই টার্গেট করেছে মামলাবাজরা। এমন ঘটনার আরেক ভুক্তভোগী পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে নিহত রিপনের পরিবারও। ৭ আগস্ট মারা যাওয়া রিপনের স্ত্রী শামীমা আকতার রুমাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এনে মামলা করাতে বাধ্য করে একটি মহল। যেখানে নানা সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে, তাদের কথামতো এজাহারে স্বাক্ষর করানো হয় বাদিকে।
আপর দিকে একই ঘটনায়, নিহত রিপনের মাও পৃথক একটি মামলা দ্বায়ের করেন আদালতে। যেখানে মামলার এজাহারে ঘটনার বর্ণণায় ফুটে ওঠে বেশ কয়েকটি অমিল। আর একইট ঘটনায় দুইটি আলাদা মামলার পর দুই পক্ষেরই দাবি, অন্যপক্ষ বিএনপি-জামায়াতের লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মামলা করেছে।
এছাড়া আশুলিয়ার দ্বায়ের করা একটি হত্যা মামলায় ঘটে অকল্পনিয় এক ঘটনা। যেকানে স্বামীর খুনের জন্য থানায় মামলা করে স্ত্রী। তবে তিনমাস পর অলৌকিকভাবে থানায় হাজির হন হত্যা গওয়া স্বামী নিজেই, বলেন তার স্ত্রী অজান্তে তাঁকে মৃত দেখিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে মামলা করেছেন।
আওয়ামী সরকার পতনের পর দেশজুড়েই চলছে মামলার নামে হয়রানির জন্য এসব হামলা। কিছু মামলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক শত্রুদের আসামি করা হচ্ছে। আবার আসামি করে মামলা থেকে নাম সরানোর জন্য দাবি করা হচ্ছে মোটা অংকের টাকাও। মামলা নিয়ে এমন কর্মকান্ডে রীতিমত স্থবির হয়ে পড়ছে দেশের আইনি ব্যবস্থা। ফলে ভুক্তভোগীদের হয়রানির পাশাপাশি সুষ্ঠ বিচারের অভাবে পার পেয়ে যাচ্ছেন অনেক আসামীও।
অন্যদিকে ঢালাও ভাবে চলমার মামলা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকেও বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। যেখানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আগে ভুয়া মামলা করত পুলিশ। এখন ভুয়া মামলাগুলো করছে জনগণ। এছাড়া ভুয়া মামলাগুলোতে কাউকে যাতে হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
কে