দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নাটোরে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হাসনা হেনাকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী শরিফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। এ মামলায় আরও তিনজনকে খালাস দেন আদালত। সোমবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের করোটা গ্রামের সামসুল হকের ছেলে।
স্পেশাল কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান জানান, ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের করোটা গ্রামের সামসুল হকের ছেলে শরিফুল ইসলামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে হাসনা হেনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য হাসনা হেনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৫ সালের ৫ ডিসেম্বর তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে যৌতুকের জন্য আর কোনো দিন নির্যাতন করবে না অঙ্গীকার করলে তাদের পুনরায় বিবাহ হয়। সংসার করাকালে হাসনা হেনা ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়। কিন্তু শরিফুল ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন বন্ধ হয় না।
প্রতিবাদ করলে ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট রাতে হাসনা হেনাকে পিটিয়ে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে পালিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। পরের দিন সকালে এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানতে পেরে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে ঘরের বারান্দায় হাসনা হেনার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তার মা মর্জিনা বেগম। এ ঘটনায় নিহতের মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে হাসনা হেনার স্বামীসহ ৪ জনের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ৬ বছর মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামির উপস্থিতিতে আদালতের বিচারক শরিফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। এ সময় মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন বিচারক। মামলার রায়ে বাদী পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
এইউ