দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফ এবং জাপানি মা নাকানো এরিকো। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে জেসমিন মালিকা এবং লাইলা লিনা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে চলছে তাদের আইনি লড়াই। আদালত রায় দিয়েছেন জাপানি দুই শিশু থাকবে মায়ের কাছে। একই সঙ্গে মা তাদের জাপান নিয়ে যেতে পারবেন। তবে মেয়ে লাইলা বাবার কাছে থাকতে চান। লাইলা বলেন, মা একবার আমাদের জাপানে নিয়ে গেলে বাবাকে আর আমরা দেখতে পারব না। তাই আমি বাবার কাছেই থাকতে চাই।
বুধবার (৩১ আগস্ট) আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
এর আগে গত ১৬ জুলাই বাংলাদেশি বাবা ও জাপানি মায়ের দুই শিশু জেসমিন মালিকা এবং লাইলা লিনাকে মা চিকিৎসক নাকানো এরিকোর জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে মেয়েদের নিয়ে জাপান যেতে পারবেন তাদের মা। এছাড়া দুই শিশুর বাবা ইমরান শরীফ যে মামলা করেছিলেন তা খারিজ করে দেন আদালত। নাবালিকা দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা কোথায় থাকলে কল্যাণ হবে সেদিক বিবেচনায় রেখে এ রায় দেওয়া হয়।
সেদিন রায়ের সময় জেসমিন মালিকা তার মা নাকানো এরিকোর সঙ্গে থাকলেও ছিলেন না লাইলা লিনা। তিনি বাবা ইমরান শরীফের সঙ্গে বাড়িতে ছিলেন।
রায়ের পর বড় মেয়ে জেসমিন মালিকা বলেছিলেন, বাবাকে ভালোবাসলেও আমরা মায়ের সঙ্গেই থাকতে চাই। বাবা আমাদের সঙ্গে যখন দেখা করতে চাইবেন, আমরা অবশ্যই তার সঙ্গে দেখা করব।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকোর সঙ্গে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ইমরান শরীফের বিয়ে হয়। দাম্পত্য কলহের জেরে ২০২০ সালের শুরুতে বিচ্ছেদের আবেদন করেন এরিকো। এরপর বাবা ইমরান স্কুলপড়ুয়া বড় দুই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। আর ছোট মেয়ে থেকে যান জাপানে মা এরিকোর সঙ্গে।
তবে ওই দুই মেয়েকে জিম্মায় পেতে মহামারির মধ্যে ২০২১ সালে বাংলাদেশে আসেন এ জাপানি নারী। সহায়তা নেন আইনের। প্রায় তিন বছর ধরে যার যার কাছে ফিরে পেতে চলছে বাবা মায়ের আইনি লড়াই।
এফএইচ