দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ছবিটা দেখে মনে হতে পারে, এটি হয়তো আশির দশকের কোনো পুরোনো অ্যালবাম থেকে উঠে এসেছে। কারও ছবিতে পুরোনো দিনের বলিউডের আবহ, কারওটিতে স্টুডিওতে তোলা প্রতিকৃতি, আবার কোনো ছবিতে ফুটে উঠছে পারিবারিক অ্যালবামের স্মৃতি। কিন্তু ছবিগুলো আসলে বর্তমান সময়ের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় বর্তমানের ছবিকেই আশির দশকের রূপ দেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ছবি তৈরির নতুন এই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ছে। স্টুডিও জিবলির আদলে ছবি কিংবা নিখুঁতভাবে সাজানো পুতুলের মতো ছবি তৈরির পর এবার ব্যবহারকারীদের আগ্রহ আশির দশকের দিকে। নিজেদেরই আশির দশকের বলিউডের নায়ক বা নায়িকার মতো করে দেখতে চাইছেন অনেকে।
কেউ ছবিতে যোগ করছেন বড় করে কোঁকড়ানো চুল, কেউ নজরকাড়া দুল ও গয়না। পুরুষদের ছবিতে থাকছে গোঁফ, শার্ট ও উঁচু কোমরের প্যান্ট। সঙ্গে উষ্ণ স্টুডিওর আলো, হালকা ঝাপসা ভাব ও ফিল্মের দানাদার গঠন। সব মিলিয়ে ছবিতে ফুটে উঠছে আশির দশকের সিনেমার পোস্টার ও সাময়িকীর প্রচ্ছদের পরিচিত আবহ।
তবে এর জন্য আশির দশকের কোনো পুরোনো ছবি খুঁজে বের করতে হচ্ছে না। ব্যবহারকারীরা নিজেদের বর্তমান সময়ের ছবি চ্যাটজিপিটিতে দিয়ে সেটিকে এমনভাবে পুনর্নির্মাণ করতে বলছেন, যেন ছবিটি প্রায় ৪০ বছর আগে তোলা হয়েছিল।
মূল ভাবনাটি হলো—আজকের এই ছবিটি যদি ৪০ বছর আগে তোলা হতো, তাহলে আমাকে কেমন দেখাত?
তবে বিষয়টি শুধু পুরোনো দিনের আবহ তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তৈরি হওয়া ছবিগুলোর ধরনও এক নয়। কোনোটি দেখতে পুরোনো বলিউডের প্রতিকৃতির মতো, কোনোটি স্টুডিওতে তোলা ছবি, আবার কোনোটি পুরোনো সাময়িকীর প্রচ্ছদ, চলচ্চিত্রের দৃশ্য কিংবা পারিবারিক অ্যালবামের ছবির মতো।
আশির দশকের আবহ ফুটিয়ে তুলতে ছবিতে ব্যবহার করা হচ্ছে উষ্ণ আলো, উজ্জ্বল রং, হালকা ঝাপসা ভাব ও ফিল্মের দানাদার গঠন। ভারতীয় ছবিতে ওই সময়ের পোশাক ও সাজসজ্জাও যুক্ত করা হচ্ছে। নারীদের ক্ষেত্রে রঙিন শাড়ি, বড় করে কোঁকড়ানো চুল ও নজরকাড়া গয়না দেখা যাচ্ছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে থাকছে শার্ট, উঁচু কোমরের প্যান্ট, গোঁফ ও পরিপাটি করে আঁচড়ানো চুল।
এই প্রবণতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গল্প প্রকাশের সুবিধাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের ব্যবহৃত নির্দেশনা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। পাশাপাশি ‘অ্যাড ইয়োরস’ স্টিকার ব্যবহার করে বন্ধু ও অনুসারীদেরও নিজেদের ছবি আশির দশকের আদলে তৈরি করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
কীভাবে তৈরি করবেন আশির দশকের ছবি
প্রথমে নিজের ছবি চ্যাটজিপিটিতে দিতে হবে। এরপর ছবিটিকে আশির দশকে তোলা ছবির মতো করে পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দিতে হবে। চাইলে চুলের ধরন, পোশাক, গয়না, পটভূমি, আলো ও ফিল্মের গঠন কেমন হবে, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো ধরনও উল্লেখ করা যায়। যেমন পুরোনো বলিউডের স্টুডিও প্রতিকৃতি, পারিবারিক অ্যালবামের ছবি, পুরোনো সাময়িকীর জন্য তোলা ছবি, ভারতীয় বিয়ের অ্যালবাম কিংবা দূরদর্শনের সময়কার টেলিভিশন প্রতিকৃতি।
ছবি তৈরির নির্দেশনায় ব্যক্তির মুখাবয়ব ও পরিচিতি যেন অপরিবর্তিত থাকে, সেটিও উল্লেখ করা যায়। পোশাক, চুলের ধরন ও আনুষঙ্গিক সাজ হবে ওই সময়ের উপযোগী। ছবিতে থাকবে উষ্ণ স্টুডিও আলো, হালকা ঝাপসা ভাব, সূক্ষ্ম ফিল্মের দানাদার গঠন এবং অ্যানালগ ক্যামেরায় তোলা ছবির আবহ।
এমনকি ১৯৮৭ সালের ভারতের কোনো রাস্তায় তোলা ছবির আবহও তৈরি করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে পোশাক, চুলের ধরন, যানবাহন, সাইনবোর্ড, আশপাশের পরিবেশ ও রং—সবকিছুই আশির দশকের শেষভাগের ভারতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যায়।
ছবি তৈরি হয়ে গেলে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গল্পে প্রকাশ করে ‘অ্যাড ইয়োরস’ স্টিকার ব্যবহার করা যায়। এতে অন্যরাও নিজেদের ছবি দিয়ে একই প্রবণতায় অংশ নিতে পারবেন।
আশির দশকের ছবি তৈরির জন্য চ্যাটজিপিটি নির্দেশনা
আশির দশকের আবহে ছবি তৈরির জন্য নিচের নির্দেশনাগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।
১. ক্ল্যাসিক বলিউড প্রতিকৃতি
‘এই ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের একটি খাঁটি বলিউড স্টুডিও প্রতিকৃতিতে রূপান্তর করুন। আমার মুখের গড়ন এবং পরিচয় চেনা যায় এমন রাখুন। আমাকে ১৯৮০-এর দশকের উপযোগী ভারতীয় পোশাক, চুলের ধরন ও অনুষঙ্গ দিন। সঙ্গে রাখুন উষ্ণ স্টুডিওর আলো, হালকা ঝাপসা ভাব, সূক্ষ্ম ফিল্মের দানাদার গঠন এবং সামান্য বিবর্ণ রং।
ছবিটিকে এমনভাবে তৈরি করুন, যেন এটি ১৯৮০-এর দশকে ভারতে তোলা একটি আসল ছবি। এটি যেন কোনো আধুনিক ছবিতে পুরোনো দিনের প্রভাব যোগ করা ছবির মতো না দেখায়। আমার মুখের গড়ন পরিবর্তন করবেন না বা আমাকে অন্য কোনো ব্যক্তি হিসেবে দেখাবেন না। ফলাফল বাস্তবসম্মত হবে। অতিরিক্ত পুরোনো দিনের প্রভাব, সেপিয়া রং বা কৃত্রিমভাবে পুরোনো দেখানোর ভাব পরিহার করুন। ছবিটি দেখে মনে হবে, এটি ১৯৮০-এর দশকে একটি অ্যানালগ ক্যামেরায় স্বাভাবিকভাবে তোলা।’
২. ক্ল্যাসিক হলিউড প্রতিকৃতি
‘এই ছবিটিকে একটি আকর্ষণীয় ১৯৮০-এর দশকের হলিউড স্টুডিও প্রতিকৃতিতে পরিণত করুন। আমার মুখ এবং মুখের গড়ন অপরিবর্তিত রাখুন। আমাকে ১৯৮০-এর দশকের উপযোগী চুলের ধরন, সাজসজ্জা ও পোশাক দিন। সঙ্গে রাখুন নাটকীয় স্টুডিওর আলো, হালকা ঝাপসা ভাব, সূক্ষ্ম ফিল্মের দানাদার গঠন এবং অ্যানালগ ক্যামেরায় তোলা ছবির আবহ।’
৩. পুরোনো পারিবারিক অ্যালবাম
‘এই ছবিটিকে এমনভাবে পুনর্নির্মাণ করুন, যেন এটি ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে কোনো ভারতীয় পারিবারিক অ্যালবামে তোলা হয়েছিল। ব্যক্তির মুখ ও অভিব্যক্তি স্বাভাবিক রাখুন। সেই সময়ের উপযোগী পোশাক, চুলের ধরন ও পটভূমি যোগ করুন।
সঙ্গে রাখুন একটি সাধারণ অন্দরসজ্জা, অ্যানালগ ক্যামেরার টেক্সচার, হালকা দানাদার গঠন, মৃদু আলো এবং বাস্তবসম্মত ফিল্মের রং। আধুনিক ডিজিটাল ছবির মতো আবহ পরিহার করুন।’
৪. ১৯৮০-এর দশকের বলিউড নায়িকা
‘এই ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের একজন আকর্ষণীয় বলিউড নায়িকার প্রতিকৃতিতে পরিণত করুন। আমার মুখ যেন চেনা যায় এবং স্বাভাবিক থাকে। চুলকে ১৯৮০-এর দশকের মতো ঘন ও উঁচু করে সাজান। একটি রঙিন শাড়ি ও নজরকাড়া গয়না যোগ করুন এবং আমাকে একটি ক্ল্যাসিক ভারতীয় স্টুডিওর পরিবেশে দাঁড় করান।
উষ্ণ আলো, হালকা ঝাপসা ভাব, অ্যানালগ ফিল্মের দানাদার গঠন এবং পুরোনো বলিউডের প্রচারমূলক ছবির মতো আবহ ব্যবহার করুন।’
৫. ১৯৮০-এর দশকের বলিউড নায়ক
‘এই ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের একজন বলিউড নায়কের স্টুডিও প্রতিকৃতি হিসেবে পুনরায় তৈরি করুন। আমার মুখের পরিচয় অপরিবর্তিত রাখুন। আমাকে সেই সময়ের উপযোগী একটি চুলের ধরন, প্রয়োজন হলে গোঁফ, শার্ট ইন করা বা ঢিলেঢালা পোশাক, উঁচু কোমরের প্যান্ট এবং একটি ক্ল্যাসিক স্টুডিও পটভূমি দিন।
অ্যানালগ ফিল্মের দানাদার গঠন, উষ্ণ আলো এবং সামান্য বিবর্ণ রং ব্যবহার করুন। ছবিটিকে এমনভাবে তৈরি করুন, যেন এটি ১৯৮০-এর দশকের একটি আসল ছবি।’
তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস ও হিন্দুস্তান টাইমস
/অ