দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রতি মাসে কোটি কোটি ব্যবহারকারী নতুন নতুন স্টাইল ও পণ্যের খোঁজে পিন্টারেস্টে ভিড় করেন। ‘দ্য মোস্ট রিডিকিউলাস থিংস’ নামের একটি জনপ্রিয় পাতায় পাওয়া যায় ক্রকস দিয়ে বানানো ফুলের টব, চিজবার্গার আকৃতির আইশ্যাডো বা সবজি দিয়ে তৈরি জিঞ্জারব্রেড ঘরের মতো অদ্ভুত সব ধারণা। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এসব সুপারিশের পেছনের প্রযুক্তি সব সময় যে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি, তা নয়। পিন্টারেস্ট এখন তাদের রিকমেন্ডেশন সিস্টেম উন্নত করতে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল ব্যবহার করছে।
পিন্টারেস্টের প্রধান নির্বাহী বিল রেডি বলেন, তারা কার্যত প্ল্যাটফর্মটিকে একটি এআইচালিত শপিং সহকারীতে রূপান্তর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এআই ল্যাব ব্যবহার করার সুযোগ থাকলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চীনের ডিপসিক আর-১ মডেল চালুর পর থেকে পিন্টারেস্টে চীনা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। রেডি একে ‘ডিপসিক মুহূর্ত’ বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, এই মডেলটি ওপেন সোর্স করার ফলে ওপেন সোর্স এআইয়ের এক নতুন ঢেউ তৈরি হয়েছে।
ডিপসিকের পাশাপাশি আলিবাবার কিউয়েন, মুনশটের কিমি এবং টিকটকের মালিক বাইটড্যান্সের মতো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোও একই ধরনের প্রযুক্তি তৈরি করছে। পিন্টারেস্টের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ম্যাট মাদ্রিগাল বলেন, এসব ওপেন সোর্স মডেলের বড় শক্তি হলো কোম্পানিগুলো নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো ডাউনলোড ও পরিবর্তন করতে পারে, যা ওপেনএআইয়ের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ মালিকানাধীন মডেলে সম্ভব নয়। তার ভাষায়, নিজস্ব ওপেন সোর্স কৌশল দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া মডেলগুলো বাজারের সেরা প্রস্তুত মডেলের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি নির্ভুল এবং খরচ কখনো কখনো ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কম।
পিন্টারেস্ট একা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় কোম্পানিই এখন চীনা এআইয়ের ওপর নির্ভর করছে। এয়ারবিএনবির প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান চেস্কি গত অক্টোবরে জানান, তাদের এআইভিত্তিক গ্রাহকসেবায় আলিবাবার কিউয়েন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, কারণ এটি ‘খুব ভালো, দ্রুত এবং সস্তা’।
এআই মডেল ডাউনলোডের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসেও চীনা মডেলের দাপট স্পষ্ট। প্ল্যাটফর্মটির পণ্য নির্মাতা জেফ বুদিয়ের বলেন, খরচের কারণেই নতুন স্টার্টআপগুলো মার্কিন মডেলের চেয়ে চীনা মডেলের দিকে ঝুঁকছে। অনেক সময় শীর্ষ দশটি জনপ্রিয় মডেলের বড় অংশই আসে চীনা ল্যাব থেকে। গত সেপ্টেম্বর হাগিং ফেসে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া বড় ভাষা মডেল পরিবার হিসেবে আলিবাবার কিউয়েন মেটার লামাকে ছাড়িয়ে যায়।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সক্ষমতা ও ব্যবহারকারী সংখ্যা—দুই ক্ষেত্রেই চীনা এআই মডেলগুলো বিশ্বসেরার সমকক্ষ হয়ে উঠেছে বা এগিয়েও গেছে। ব্রিটেনের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী স্যার নিক ক্লেগ বলেন, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো অতিমাত্রায় ভবিষ্যতের ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ তৈরিতে মনোযোগী হয়ে পড়ায় ওপেন সোর্স এআইয়ে চীন এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তার ভাষায়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বৈরতন্ত্র ও সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের এই প্রতিযোগিতায় চীনই প্রযুক্তিকে বেশি ‘গণতান্ত্রিক’ করছে।
স্ট্যানফোর্ডের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনা সরকারের সহায়তাও ওপেন সোর্স এআইয়ে দেশটির সাফল্যের একটি কারণ। বিপরীতে ওপেনএআইয়ের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনক হওয়ার চাপের মধ্যে রয়েছে এবং আয় বাড়াতে বিজ্ঞাপনের দিকেও ঝুঁকছে। যদিও ওপেনএআই গত গ্রীষ্মে দুটি ওপেন সোর্স মডেল প্রকাশ করেছে, তাদের বেশিরভাগ বিনিয়োগই যাচ্ছে মালিকানাধীন মডেলে। ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, তারা আরও শক্তিশালী পরবর্তী মডেল তৈরিতে বিপুল অর্থ ও অবকাঠামো বিনিয়োগ চালিয়ে যাবে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/