দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাজ্যের এআই খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২২ বিলিয়ন পাউন্ড) বিনিয়োগ করছে মাইক্রোসফট। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। প্রতিষ্ঠানটির আশা, এ বিনিয়োগ আগামী পাঁচ বছরে ব্রিটেনের অর্থনীতিকে অন্তত ১০ শতাংশ এগিয়ে নেবে।
এ বিনিয়োগ মূলত ডেটা সেন্টার এবং একটি নতুন সুপারকম্পিউটার নির্মাণে ব্যবহার হবে, যা তৈরি হবে এসেক্সের লটনে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল ও এনভিডিয়া ব্রিটেনে ব্যাপক বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাইক্রোসফটের প্রধান সত্য নাদেলা বলেন, ‘এআই যে অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। আশা করছি, এটি ১০ বছরে নয়, বরং ৫ বছরের মধ্যেই হবে।’
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার এ চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের “এক প্রজন্মের বড় পরিবর্তন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, “এটি উচ্চ দক্ষতার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, মানুষের হাতে আরও অর্থ তুলে দেবে এবং পুরো যুক্তরাজ্য উপকৃত হবে।’
তবে সমালোচকেরা বলছেন, এত বিপুল বিনিয়োগে ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। একইসঙ্গে এআই প্রযুক্তির উচ্চ বিদ্যুৎ খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, শেষ পর্যন্ত এর খরচ ব্রিটেনকেই বহন করতে হতে পারে।
নাদেলা অবশ্য বলছেন, এআই স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি সেবা ও ব্যবসায় উৎপাদনশীলতায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, প্রযুক্তির সব ক্ষেত্রের মতো এআইয়েও উত্থান-পতন ঘটবে।
চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে একটি ‘এআই গ্রোথ জোন’ গড়ে তোলা হবে, যেখানে ৫ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান ও বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি নর্থাম্বারল্যান্ডে ওপেনএআই, এনভিডিয়া, আর্ম ও এনস্কেল যৌথভাবে ‘স্টারগেট ইউকে’ নামে একটি ডেটা সেন্টার নির্মাণ করবে।
প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি ব্রিটেনের জন্য এক ‘ব্রেকথ্রু মুহূর্ত’, তবে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশটিকে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও প্রযুক্তি নীতি সংস্কারে দ্রুত অগ্রগতি দেখাতে হবে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/