দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে প্রবেশ করেছে অ্যাপল। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৯৯৯ ডলার দামের ফোল্ডেবল আইফোন ‘ডুয়ো’ উন্মোচন করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নকশা, গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে কয়েক বছর ধরে এই বাজারে থাকা স্যামসাং ও চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টটি।
ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে স্যামসাং ও হুয়াওয়ের মতো কোম্পানিগুলোর আধিপত্য রয়েছে। তবে এ ধরনের ফোন এখনো মূলধারার বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়নি। বিশ্লেষকদের ধারণা, অ্যাপলের প্রবেশে এ খাতের বাজার আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
আইফোন ডুয়োর নকশা অনেকটা পাসপোর্টের মতো। গোলাকার প্রান্তের ফোনটি খুললে পাওয়া যাবে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির অনুভূমিক ডিসপ্লে, যা প্রয়োজনে উল্লম্বভাবেও ব্যবহার করা যাবে। ভাঁজ করা অবস্থায় সামনে থাকবে একটি ছোট ডিসপ্লে।
অ্যাপল জানিয়েছে, খোলা অবস্থায় এটি তাদের তৈরি সবচেয়ে পাতলা আইফোন। এতে কাস্টম হিঞ্জ, একই অনুপাতের দুটি ডিসপ্লে এবং টাইটানিয়ামের তৈরি নতুন কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। তবে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কয়েকটি ফোল্ডেবল ফোনের তুলনায় ডুয়ো কিছুটা মোটা।
অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন টার্নাস বলেন, বাজারে থাকা অনেক ফোল্ডেবল ফোন দেখতে অস্বস্তিকর এবং স্ক্রলিং বা ভিডিও দেখার মতো সাধারণ কাজের জন্য খুব একটা উপযোগী নয়। ডুয়ো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি পকেটে বহন করা যায় এবং ব্যবহারের সময় আইপ্যাডের মতো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
বাজার দখলের প্রত্যাশা
প্রায় ২ হাজার ডলারের ফোন দিয়ে অ্যাপল কতটা গ্রাহক আকৃষ্ট করতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তবে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশন (আইডিসি) ধারণা করছে, আগামী বছরের শেষ নাগাদ ফোল্ডেবল ফোনের বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ দখল করতে পারে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটি যতগুলো ফোল্ডেবল আইফোন উৎপাদন করতে পারবে, সেগুলোই বিক্রি হয়ে যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
অ্যাপল ডুয়োকে শুধু বিনোদনের জন্য নয়, ব্যবসা ও উৎপাদনশীলতার কাজেও উপযোগী হিসেবে তুলে ধরেছে। অনুষ্ঠানে একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে জুমে ভিডিও কল, বড় পর্দায় স্ল্যাক ব্যবহার এবং একই সময়ে একাধিক অ্যাপের উইন্ডো চালানোর সুবিধা দেখানো হয়।
অ্যাপল জানিয়েছে, আগামী ২৩ অক্টোবর বাজারে আসবে আইফোন ডুয়ো। এতে থাকবে নতুন এ২০ প্রো চিপ ও অ্যাপলের তৈরি সি২ মডেম। কোয়ালকমের ওয়্যারলেস ডেটা চিপের ওপর নির্ভরতা কমানোর অংশ হিসেবে এই মডেম তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
কোম্পানির দাবি, দুই পর্দা ব্যবহার করে স্বাভাবিক কাজের ক্ষেত্রে ডুয়োর ব্যাটারি ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত চলবে। প্রায় ২০ মিনিটে ব্যাটারি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যাবে।
আইডিসির ডিভাইস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো জেরোনিমোর মতে, অন্য কোম্পানিগুলোর কয়েক বছর পর ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে ঢুকেও অ্যাপল অল্প সময়ের মধ্যে এ খাতের মূল্য ও মান নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ডিভাইস অ্যাপলের ফোল্ডেবল আইফোনের সঙ্গে তুলনা করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে চীনের বাজারে অ্যাপলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশটির ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে হুয়াওয়ের শক্ত অবস্থান রয়েছে। জেরোনিমোর মতে, অ্যাপলের প্রবেশ চীনের ক্রেতাদের সামনে নতুন একটি আকর্ষণীয় বিকল্প তৈরি করেছে।
এদিকে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে প্রচারণা জোরদার করেছে স্যামসাং। ২০১৯ সালে এ খাতে বড় পরিসরে প্রবেশ করা প্রতিষ্ঠানটি এখন অ্যাপলকে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিপি ফোরসাইটের প্রতিষ্ঠাতা পাওলো পেসকাতোরে বলেন, বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ স্যামসাংয়ের জন্য বড় প্রতিযোগিতার কারণ হতে পারে।
ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভাষা শেখার অ্যাপ ডুওলিঙ্গো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রসিকতা করে অ্যাপলের বিরুদ্ধে তাদের নাম ব্যবহারের অভিযোগ তোলে। পরে স্যামসাং মোবাইল ইউএস ওই পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অ্যাপলকে নিয়ে পাল্টা রসিকতা করে।
যে আই