দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সংযমের আহ্বান জানিয়ে ব্রিকসের যৌথ বিবৃতিতে সই করেছে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। শনিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনে এ বিবৃতি দেওয়া হয়। যুদ্ধের কারণে দুই দেশের মধ্যে বিভাজন তৈরি হলেও যৌথ বিবৃতিতে সইকে কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সংঘাত শুরুর পর দুই দেশের নেতাদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। তবে বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা ইরানি দূতাবাসের প্রকাশিত ছবির সঙ্গে জানানো হয়নি।
ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে—এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি প্রবাহ ও নৌ নিরাপত্তা রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কূটনীতি বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে এমন একটি ভাষা তৈরি করাই ছিল ব্রিকসের জন্য বড় পরীক্ষা, যা ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—দুই দেশই গ্রহণ করতে পারে। যৌথ বিবৃতি বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনবে না বলে মনে করা হলেও উদীয়মান দেশগুলোর এই জোটের ঐক্য প্রদর্শনে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতে নিযুক্ত ইরানের দূতাবাস ইরানের প্রেসিডেন্ট ও আবুধাবির যুবরাজের বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেছে। তবে বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সঞ্জয় সুধীর রয়টার্সকে বলেন, যুদ্ধের অবসানের মূল চাবিকাঠি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে। তাঁর মতে, ভারত যে কাজটি করেছে তা হলো কঠিন আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা—যাতে এ অঞ্চলের দেশগুলো একই টেবিলে বসতে পারে, কূটনৈতিকভাবে যুক্ত হতে পারে এবং যেখানে তাদের স্বার্থ এক জায়গায় মেলে, সেখান থেকে এগিয়ে যেতে পারে।
ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কের মধ্যে অবশ্য সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব রয়েছে। ইরান কয়েক দফায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও হেলিকপ্টার থাকা আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়।
সম্মেলনের উদ্বোধনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ব্রিকস এখন পরিণত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক পরিসরে জোটের ঐক্য ও ঐকমত্যকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে।
বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে ব্রিকস। জোটের কিছু সদস্য মনে করে, এসব প্রতিষ্ঠানে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব অতিরিক্ত।
নয়াদিল্লির সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাসহ জোটের বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নিয়েছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ইতিহাসের সঠিক পথে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক করার ক্ষেত্রে ব্রিকস দেশগুলোর ভূমিকা রাখা উচিত।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চীন তার যথাযথ ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলেও জানান শি। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে এবং স্থায়ী ও ব্যাপক যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে ভারত। একই সঙ্গে ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/