দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আবেদন করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত দুবার ফোনে কথা বলেন সৌদি যুবরাজ। তবে হুথিদের ওপর সরাসরি মার্কিন হামলা চালাতে ট্রাম্প সম্মতি দেননি। পরিবর্তে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ফোনালাপের বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউস। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাসহ যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষায় ওয়াশিংটন কাজ করছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক অংশীদারদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
দুটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও সৌদি আরব সফর করেন। সেখানে তিনি সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক সহায়তা চাওয়ার ঘটনা দেশটির আগের অবস্থানের তুলনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে জুলাইয়ে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছিল, তারা নিজেরাই হুথিদের মোকাবিলা করতে সক্ষম। একই সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত না করার ওপর জোর দিয়েছিল রিয়াদ।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেক ব্যক্তি জানান, সৌদি কর্মকর্তারা সে সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সাবেক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের কাছে সৌদি যুবরাজের যোগাযোগের উদ্দেশ্য ছিল হুথিদের ওপর সামরিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আসতে পারে কি না, তা জানতে চাওয়া। কারণ রিয়াদ একা হুথিদের মোকাবিলা করতে চায় না।
ওই কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত সৌদি আরবকে মার্কিন সামরিক হামলার বিষয়ে না বলা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নজরে রাখতে হবে।
এদিকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা। শুক্রবার তারা বাব আল-মান্দাব প্রণালির কৌশলগত দ্বীপ পেরিমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। রয়টার্সকে ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্রও হুথিদের এ অগ্রগতির বিষয়টি জানিয়েছে।
লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে গেলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে তেহরান কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। এতে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইরান-সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব লোহিত সাগরীয় নৌপথের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে সৌদি আরবের জন্য এ পরিস্থিতি বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয় জুলাইয়ের শুরুতে। ওই সময় হুথিরা অভিযোগ করে, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের একটি বেসামরিক বিমান অবতরণ ঠেকাতে সৌদি যুদ্ধবিমান সেখানে তৎপরতা চালিয়েছিল। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে, যা হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যকার চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। একই সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলার কারণে হাজারো মানুষ নিহত ও লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেল ও যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দামও বেড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/