দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাত বছর পর ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তার এ সফর।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
শি জিনপিংয়ের এ সফরকে ভারত-চীন সম্পর্কের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়েছিল। ওই সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় ও চার চীনা সেনা নিহত হন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে এগিয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে কি না, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। এমন বৈঠক হলে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ভারত ইতোমধ্যে চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপ করা কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। ইলেকট্রনিকস, মূলধনি পণ্য ও সৌরকোষের মতো খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কয়েকটি খাতে ভারতীয় ও চীনা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগের অনুমোদন দ্রুত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। এরই মধ্যে ভারতীয় ডিক্সন টেকনোলজিস ও চীনের ভিভো মোবাইলের একটি উৎপাদন উদ্যোগ অনুমোদন পেয়েছে।
তবে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের অগ্রগতি এখনো তাল মেলাতে পারেনি। বিনিয়োগে বিধিনিষেধ, ভিসা পেতে দেরি এবং শিল্প সরঞ্জাম আমদানিতে বাধার মতো বিষয়গুলো দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কে আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট করছে। চীনের বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি ও গ্রেট ওয়াল মোটরও ভারতে তাদের আগের বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে সরে যাওয়ার পর এখনো ফিরে আসেনি।
একই সময়ে চীনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও ভারতে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও অবকাঠামো সরঞ্জাম সরবরাহে সতর্কতা রয়েছে বলে ভারতীয় কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে। বন্দর সরঞ্জাম, সৌর প্যানেল ও মুঠোফোন উৎপাদন সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য এর আওতায় রয়েছে। চীন থেকে ভারতে আনা কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ শুল্ক দপ্তরে আটকে থাকার কথাও জানিয়েছে সূত্রগুলো।
ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ লিন মিনওয়াং বলেন, চীন সম্পর্ক উন্নত করতে চায়। তবে ভারত কতটা এগিয়ে আসতে প্রস্তুত, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তার মতে, দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অগ্রগতি দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
নয়াদিল্লিভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হর্ষ পান্ত বলেন, দুই দেশের মধ্যে ‘আস্থার ঘাটতি’ এখনো অনেক বেশি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির প্রভাব যখন দুই দেশই অনুভব করছে, তখন চীনের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদি দুই দেশকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, একে অপরের উন্নয়নের জন্য দুই দেশ হুমকি নয়, বরং সুযোগ।
বিশ্লেষকদের মতে, শি-মোদি বৈঠক হলে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান কিছু বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কাটিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে আরও সময় লাগতে পারে।
/অ