দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আলজেরিয়া। বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় দেশটি। আবুধাবির একাধিক ‘উসকানিমূলক বা বৈরী’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি আলজেরিয়া।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর গ্রহণযোগ্য বা সহনীয় বলে বিবেচনা করা সম্ভব নয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সব পথও তারা শেষ করে ফেলেছে।
আলজেরিয়ায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আলজেরিয়ার এই ঘোষণার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত ‘যৌক্তিকতা, যোগাযোগ ও স্বার্থের স্পষ্টতা’। ধাঁধা বা এমন ইঙ্গিতের ওপর সম্পর্ক নির্ভর করা উচিত নয়, যার অর্থ বুঝতে আলাদা করে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলজেরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কের টানাপোড়েন ক্রমেই বেড়েছে। আলজেরিয়ার গণমাধ্যমগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, আবুধাবি আঞ্চলিক বিভেদ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। আলজেরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিরোধিতা করে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আলজেরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কো ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
পশ্চিম সাহারা নিয়েও দুই দেশ বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবিকে সমর্থন করে এবং পশ্চিম সাহারায় তাদের একটি কনস্যুলেট রয়েছে। অন্যদিকে আলজেরিয়া পলিসারিও ফ্রন্টকে সমর্থন করে, যারা স্বাধীন পশ্চিম সাহারা প্রতিষ্ঠার দাবি করে।
সাহেল অঞ্চলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের স্বার্থ ক্রমেই পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের কয়েকটি সরকারের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক সম্প্রসারিত হয়েছে। অন্যদিকে একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থানের পর আলজেরিয়ার সঙ্গে দেশটির কয়েকটি দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশীর সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেববুন গত বছর বলেছিলেন, উপসাগরীয় সব দেশের সঙ্গে তার দেশের সম্পর্ক উষ্ণ, শুধু একটি দেশ ছাড়া। তিনি সরাসরি দেশটির নাম না বললেও তা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সঙ্গে সম্পর্ককে তিনি ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নাম না করে একটি দেশের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং দেশটিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে স্বাক্ষরিত দুই দেশের বিমান চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে আলজেরিয়া।
/অ