দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তার দুই ছেলে কাসিম ও সুলায়মান খান। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে কঠিন পরিস্থিতিতে বন্দি থাকা ইমরান খানের সঙ্গে গত ছয় মাস ধরে তাদের কোনো ফোনে কথা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তারা।
ইমরানের ছেলেরা জানান, আগে পাকিস্তানের কোনো অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলেই তারা দিন-রাতের সময় না দেখে ফোনটি ধরতেন। কারণ সেটি তাদের বাবা ইমরান খানের ফোন হতে পারে। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে তার কাছ থেকে কোনো ফোন আসেনি।
কাসিম খান অস্ট্রেলিয়ার এবিসির ‘৭.৩০’ অনুষ্ঠানে বলেন, সামরিক হাসপাতালে ইমরান খানের সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য দেখা করার সুযোগ পাওয়া এক আত্মীয়ের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন যে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে।
কাসিম বলেন, ইমরান খানের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদস্পন্দনে অস্বাভাবিকতা এবং সার্বিকভাবে উদ্বেগের সমস্যা দেখা যাচ্ছে বলে মনে হয়েছে।
১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতানো ইমরান খান পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি দেশটির শক্তিশালী সামরিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থনও পেয়েছিলেন। তবে ২০২২ সালের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে মনে করেন ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অধ্যাপক সামিনা ইয়াসমিন। তার মতে, ইমরানকে ক্ষমতায় আনতে যারা জোটে যোগ দিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাদের অনেককেই জোট থেকে সরে যেতে উৎসাহিত করা হয়।
এরপর অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান ইমরান খান। তার অপসারণের পর পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। পরে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ শতাধিক মামলা করা হয়। বিভিন্ন মামলায় তিনি ৩০ বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।
অধ্যাপক ইয়াসমিনের মতে, এসব মামলার অনেকগুলোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করা হয়। তবে কিছু মামলা এখনো কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ইমরান খানের বিরুদ্ধে মানুষকে সহিংসতায় উসকানি ও সংগঠিত করার অভিযোগ রয়েছে।
তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি ইমরান খানের বন্দিজীবনের পরিবেশ নিয়ে জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তার ছেলে সুলায়মান খান বলেন, কারাগারে ইমরান খানকে পড়ার সামগ্রী ব্যবহারেরও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
সুলায়মান আরও বলেন, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্বাধীন চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, স্বাধীনভাবে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ারও নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু তাদের দাবি, এসব নির্দেশনা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি।
তিনি বলেন, “আমরা শুধু যে পরিস্থিতিতে তাকে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার চেষ্টা করছি।”
তবে পাকিস্তান সরকার ইমরান খানের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ আছেন এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের সুযোগও তাকে দেওয়া হচ্ছে।
এমএস/