দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রায় আড়াইশ দিন সমুদ্রে কাটানোর পর থাইল্যান্ডের পর্যটন নগরী পাতায়ায় পা রেখেছেন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ৫ হাজার নাবিক। সেখানে গিয়ে তারা পানশালা বা এমন কোনও বিনোদনকেন্দ্র ছুটে যাননি, বরং তাদের বেশির ভাগকেই শপিংমলে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের থাকার জন্য পাতায়ার দুটি সমুদ্রতীরবর্তী হোটেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর একটি হার্ড রক হোটেলে সাম্প্রতিক কেনাকাটা হাতে নিয়ে নাবিকদের আড্ডা দিতে দেখা গেছে। সামরিক চুলের ছাঁট, গোঁফ ও নেভি টি-শার্টে তারা পাতায়ার সাধারণ পর্যটকদের ভিড়ে সহজেই আলাদা হয়ে উঠছিলেন।
তবে রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পাতায়ার চেহারা। নিয়ন আলো, উচ্চ শব্দ আর নানা ধরনের বার-রেস্তোরাঁয় মুখর হয়ে ওঠে শহরটি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পাতায়ার পর্যটন ব্যবসায় সাম্প্রতিক সময়ে মন্দা চলছে। সংঘাতের এলাকায় দায়িত্ব পালন শেষে আসা মার্কিন নাবিকদের কাছ থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাই বাড়তি আয়ের প্রত্যাশা করছেন।
বুধবার রাতে পাতায়ার বিখ্যাত ‘ওয়াকিং স্ট্রিটে’ মার্কিন নাবিকদের স্বাগত জানিয়ে বিশাল আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। সমুদ্রে থাকার সময় প্রায় ৯ মাসের বেতন খরচ করার সুযোগ না পাওয়ায় নাবিকদের হাতে প্রচুর অর্থও রয়েছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা।
তবে থাইল্যান্ডে পতিতাবৃত্তি আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় যৌনকর্মীদের থেকে দূরে থাকতে নাবিকদের সতর্ক করা হয়েছে। যদিও অ্যালকোহল পানের ক্ষেত্রে তেমন বাধা দেখা যায়নি। মধ্যরাতের দিকে কয়েকজন তরুণ নাবিককে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে একে অপরকে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ আবার লাল আলোয় আলোকিত গো-গো বারে প্রবেশ করেন।
এক নাবিক বলেন, ৯ মাস সমুদ্রে থাকার পর তিনি সময়ের হিসাবই হারিয়ে ফেলেছেন। জাহাজে জীবন একঘেয়ে হয়ে উঠেছিল। হাজারও মানুষের সঙ্গে একই জাহাজে থাকায় জায়গাটি বড় হলেও সবসময় ছোট মনে হতো। ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরতে কত সময় লাগবে জানতে চাইলে তার সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, ‘অনেক দেরি।’
মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার রবিনসন জানান, নাবিকদের যতটা সম্ভব বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তারা মার্কিন আইন, নৌবাহিনীর বিধি এবং থাইল্যান্ডের আইন মেনেই চলবেন।
কেএম