দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার রাতভর বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
মঙ্গলবার ভোরের এ হামলার মধ্য দিয়ে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো তীব্র রুশ হামলার মুখে পড়ল কিয়েভ।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির ওপর বিমান হামলা আরও বাড়িয়েছে রাশিয়া। যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি ধীর হয়ে আসার মধ্যেই হামলার তীব্রতা বাড়ানো হয়েছে।
গত সপ্তাহ থেকে নতুন কৌশলে দিন-রাত কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক ড্রোন পাঠাচ্ছে মস্কো। এসব হামলায় আবাসিক ভবন ও গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন ধরনের অনেক ড্রোন জেটচালিত ও দ্রুতগতির হওয়ায় সেগুলো প্রতিহত করা কঠিন বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, রাতভর হামলায় আবাসিক এলাকা ও রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে রুশ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
কিয়েভে নিহত আটজনের বেশির ভাগই রেলকর্মী বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। রাজধানীর বাইরে বরিসপিল শহরে আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় আরও চারজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালেও কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দিনের বেলায় ড্রোন হামলায় একটি আবাসিক ভবনে আগুন ধরে গেলে তিনজন আহত হন বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো।
হামলার পর কিয়েভের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবনের ৪০ বছর বয়সী বাসিন্দা স্ভিতলানা রয়টার্সকে বলেন, এখন সবাই এক দিন করে জীবন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরেক বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী ডায়ানা বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা আমাদের সীমায় পৌঁছে গেছি। মানসিকভাবে বিষয়টি খুব কঠিন, বিশেষ করে যখন দিনের বেলায় আপনাকে কাজও করতে হয়। তবে আমরা টিকে আছি।’
কিয়েভ ছেড়ে চলতি শীতেই অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বোদহান ও ওলেক্সান্দ্রা নামের এক দম্পতি।
এদিকে কৃষ্ণসাগরীয় ওদেসা অঞ্চলে ন্যাটো সদস্য রোমানিয়ার সঙ্গে থাকা একটি সীমান্ত পারাপার এলাকাতেও রুশ হামলা হয়েছে। এতে ওই এলাকার হাজারো পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিবিহা দেশটির মিত্রদের রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ইউক্রেনে সংকটজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। সম্প্রতি অবশ্য দেশটি অল্পসংখ্যক নতুন প্যাট্রিয়ট পেয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনত বলেন, আগস্টে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ২ হাজার ৮০০টির বেশি জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করেছে। জুলাইয়ে জুনের তুলনায় এসব ড্রোনের ব্যবহার পাঁচ গুণ বেড়েছিল।
অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বাড়িয়েছে। তেল শোধনাগার ও সরবরাহ অবকাঠামোর পাশাপাশি অনলাইন কেনাকাটার প্রতিষ্ঠানের গুদামও এসব হামলার লক্ষ্য হয়েছে।
রাশিয়ার আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের হামলায় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বন্দর উস্ত-লুগার বন্দর এলাকায় আগুন লাগে। সামারা অঞ্চলেও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এদিকে এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের হামলায় ব্যবহৃত কয়েকটি ড্রোন সাময়িকভাবে এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্নো পেভকুর বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এমন একাধিক ঘটনার সর্বশেষটি দেখিয়েছে, ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, রাতভর কিয়েভ, ওদেসা ও আশপাশের অঞ্চলের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইউক্রেন ও রাশিয়ার শান্তি আলোচনা থমকে আছে। ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ততাও বেড়েছে।
সোমবার জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে তার ‘বিস্তারিত ও গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনে তাদের সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেন, মানবতার স্বার্থে যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন। জবাবে পুতিন বলেন, মস্কো এই লক্ষ্যেই ‘এগিয়ে যাচ্ছে’।
/অ