দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট হ্রদটি ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসায় সেটি উপচে পড়ার ঝুঁকি কমেছে বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। তবে হ্রদ দুটি পুরোপুরি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি থাকবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে দেশটির পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, চীন-নেপাল সীমান্তে দুই নদীর মিলনস্থলে সৃষ্ট হ্রদটির পানি ধীরে ধীরে বের হয়ে যাচ্ছে। শনিবার বিকেলের দিকে হ্রদের কিছু তলদেশও দৃশ্যমান হয়।
শনিবার সকালে হ্রদটির আয়তন ছিল প্রায় ৯৯ হাজার বর্গমিটার, যা প্রায় ১৪টি ফুটবল মাঠের সমান। বৃহস্পতিবারের তুলনায় এর আয়তন ২১ হাজার বর্গমিটার কমেছে।
বুধবার হিমবাহ ধসে পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত হিমালয়ের নদীগুলো দিয়ে নেমে আসে। এতে তিব্বতের সঙ্গে নেপালের সংযোগকারী একটি সীমান্ত বন্দর কমপ্লেক্স ভেসে যায়। ভয়াবহ ওই দুর্যোগে শত শত মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
হিমবাহের ধ্বংসাবশেষে তৈরি হ্রদটি থেকে দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষ। হ্রদটির পানি স্বাভাবিকভাবে বের হয়ে যাওয়ায় উজান ও ভাটির এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞরা। তবে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হবে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে হ্রদটি পুরোপুরি খালি হয়ে যেতে হবে।
হ্রদে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে উদ্ধারকর্মীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ৩০ মিনিটের বেশি সময় আগে সতর্কবার্তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
হ্রদটির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রকৌশল ও উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান চায়না আনেং রাডার ও ড্রোন মোতায়েন করেছে। বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চলছে।
শুক্রবার হ্রদটির পানি সাময়িকভাবে উপচে পড়ায় উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া হিমবাহ ধসের পাদদেশে আরও একটি বড় জলাধারের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ কারিগরি নির্দেশনা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী চেন হংছি বলেন, ওই জলাধারের আয়তন ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটারের বেশি হতে পারে। তবে এর গভীরতা এখনো জানা যায়নি।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুটি হ্রদের পানি পুরোপুরি বের না হওয়া পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি থাকবে।
শনিবার সকালে বৃষ্টির মধ্যেই ৫০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী পাথর ও কাদার ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান। তাঁরা জীবিত কাউকে পাওয়া যায় কি না, সে জন্য ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন এবং বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানান।
শুক্রবার বিকেলে প্রথম উদ্ধারকারী দল ও একটি প্রশিক্ষিত কুকুর গিরং সীমান্ত বন্দর কমপ্লেক্সে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে তারা পুরো এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখে।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে চীনের উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা এখনো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী তিন দিন ওই এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
সীমান্ত বন্দরের দিকে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক দ্রুত চালু করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার বিকেল পর্যন্ত উদ্ধারকারী ও প্রকৌশলীরা দুর্গত এলাকা থেকে প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
চীনে দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এখনো ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ৫০০ গ্রামবাসী ও নির্মাণশ্রমিক এবং ওই এলাকায় থাকা ৫৫৫ পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
হিমবাহটি কেন ধসে পড়ল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন।
হংকংয়ের সিটি ইউনিভার্সিটির স্কুল অব এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের ডিন বেঞ্জামিন হর্টন বলেন, ভূমিকম্পের কারণে এটি ঘটেছে কি না, নাকি উষ্ণ তাপমাত্রায় হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে ধস নেমেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, লাংটাং লিরুং পর্বতশৃঙ্গের কাছে হিমবাহের নিচের অংশ ভেঙে উপত্যকার দিকে নেমে আসে। এর ফলে বরফ ও পাথরের তুষারধস এবং পরে বড় ধরনের ভূমিধসের সৃষ্টি হয়।
হর্টনের মতে, এ ধরনের ভূমিধসের প্রক্রিয়া পুরোপুরি বোঝার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। তাই এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/