দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রবল বৃষ্টিতে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হওয়ায় নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজদের সন্ধান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরানো, যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, মরদেহ শনাক্ত ও সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারে বিদেশি কারিগরি সহায়তা চেয়েছে দেশটি। বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বতে অন্তত ৬৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার হিমবাহ ধসে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ি নদীগুলোতে আকস্মিক ঢল নামে। এতে পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত বিস্তীর্ণ এলাকা ভাসিয়ে নেয়। নেপালে অন্তত ৬২৬ জন এবং তিব্বতে সাতজন নিহত হয়েছেন। এখনো প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নেপালে প্রায় ২ হাজার ৪২৬ জন এবং তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে অন্তত ৫৫৪ জন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক, যাদের বেশির ভাগই ভারতীয় হিন্দু তীর্থযাত্রী।
ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার জানান, বৃষ্টি ও ঘন কুয়াশার কারণে শনিবার উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া তীর্থযাত্রীদের সড়কপথে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বন্যার তিন দিন পর উদ্ধার হওয়া কয়েকটি মরদেহ পচে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মহামারির আশঙ্কায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে এসব মরদেহ দাফন করা হবে। চিতওয়ান জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে খোলা জায়গায় দাফন করা হবে।
এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে কাঠমান্ডুর মহারাজগঞ্জ মেডিকেল ক্যাম্পাসে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতালে নেওয়া ৪৯টি মরদেহের মধ্যে মাত্র সাতজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
বন্যার পর নেপাল-চীন সীমান্তে সৃষ্ট একটি হ্রদ উপচে পড়ার আশঙ্কায় শুক্রবার উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। তবে শনিবার চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্রদটির পানি উপচে পড়ার ঝুঁকি কমেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, পানি ধীরে ধীরে বের হয়ে যাওয়ায় হ্রদটির জলাধারও কমছে। তবে দুটি উজানের হ্রদ পুরোপুরি খালি না হওয়া পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি থাকবে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিষির খানাল বলেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য তাঁদের বড় ধরনের সহায়তা প্রয়োজন নেই। তবে সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধার, সেতু ধ্বংস হওয়া এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, মরদেহ শনাক্ত, ডিএনএ পরীক্ষা এবং দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের মতো বিশেষায়িত কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন। এ ধরনের সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।
নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। দেশটি প্রায় ৬০ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে তিনটি বিমান পাঠিয়েছে। এসব সামগ্রীর মধ্যে কম্বল, ওষুধ, খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট রয়েছে। পাশাপাশি সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসক দল, দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, অস্থায়ী সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে কারিগরি দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভারত।
চীনও নেপালের দুর্গত এলাকায় জরুরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্ধার তৎপরতায় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো করা হয়নি।
অন্যদিকে তিব্বতের গিরং সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজ পাঁচ শতাধিক মানুষকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ। ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়কের পরিবর্তে দড়ি ব্যবহার করে পাহাড়, উপত্যকা ও দুর্গম বনাঞ্চল পেরিয়ে শুক্রবার উদ্ধারকারীরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্ত কমপ্লেক্সে পৌঁছান।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/