দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যাকবলিত এলাকায় আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় হিমবাহের বন্যার আশঙ্কায় কিছু সময় অভিযান স্থগিত রাখার পর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণযোগ্য মনে হওয়ায় উদ্ধারকাজ পুনরায় শুরু করেছে নেপাল ও চীন।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভয়াবহ এই দুর্যোগে দেশটিতে অন্তত ৫৭৯ জন নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। চীনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জন।
বুধবার সকালে হিমালয়ের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের অংশ ধসে পড়ার মধ্য দিয়ে এই বিপর্যয়ের শুরু। প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে নেমে আসার সময় হিমবাহটি বিপুল পরিমাণ পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সঙ্গে নিয়ে লেন্দে নদীতে আছড়ে পড়ে।
এর ফলে সৃষ্ট প্রবল স্রোত নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার দিকে দক্ষিণে ছুটে যায়। একপর্যায়ে মাত্র ৩০ মিনিটে ত্রিশূলী নদীর পানির উচ্চতা ৯ মিটার বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে এই ঘটনার কারণ বললেও পরে তাদের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূমিকম্পের মতো যে কম্পন শনাক্ত হয়েছিল, সেটি আসলে ভূমিধসের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।
হিমবাহ ধসের স্থানে নতুন একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে সেটির পানির উচ্চতা বাড়তে শুরু করে। দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কায় সাময়িকভাবে উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে হ্রদটির ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে মনে হওয়ায় আবারও অভিযান শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহজনিত ঝুঁকি বিশেষজ্ঞ অ্যালটন বায়ার্স আল জাজিরাকে বলেন, নতুন হ্রদটি আটকে রাখা বাঁধ অত্যন্ত অস্থিতিশীল। দুই দিন আগে পাহাড় থেকে নেমে আসা আলগা ধ্বংসাবশেষ দিয়ে এটি তৈরি হয়েছে এবং এটি ধরে রাখার মতো খুব বেশি কিছু নেই।
তার মতে, সবচেয়ে নিরাপদ পরিস্থিতি হবে হ্রদের পানি প্রাকৃতিকভাবে ধীরে ধীরে বের হয়ে যাওয়া। চীনা উদ্ধারকারীরা হাতিয়ার ও অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করে হ্রদের পানি কমানোর চেষ্টা করতে পারেন বলেও জানান তিনি। হিমবাহ হ্রদের আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অন্যান্য দেশেও এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং তিব্বতের গিরং এলাকায় দুর্যোগস্থল পরিদর্শন করেন। একই দিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একটি বৈঠকে কর্মকর্তাদের বৈজ্ঞানিকভাবে উদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং হিমবাহের হ্রদগুলোর ওপর নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
এদিকে ভারত, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছেছে। কাদা ও ধসে যাওয়া সড়কের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারীরা পৌঁছানোর পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।
/অ