দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হিমালয়ঘেঁষা নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। বুধবারের এই বন্যায় রাস্তা, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ প্রকল্প তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে বড় ধরনের ভূমিধস আঘাত হেনেছে তিব্বতের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর জিরং বন্দরে। এতে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বিভিন্ন দেশের শত শত নাগরিক।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই অঞ্চলে একটি ভূমিকম্পের পর নেপালের লেন্দে খোলা নদীতে বরফ ও শিলার বিশাল ধস নামে। এর জেরেই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। নদীটি নেপাল ও তিব্বতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
বন্যার ঘটনায় অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়, ৯৩ জন নেপালি, তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের এবং ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত দক্ষিণ কোরিয়ার আট নাগরিকেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
নিখোঁজদের মধ্যে মালয়েশিয়ার ১৭ জন, দক্ষিণ আফ্রিকার চারজন এবং অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
তবে বিপদ এখনো কাটেনি বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। লেন্দে খোলা নদীর উজানে এখনো একটি বাধা আটকে থাকায় দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের সীমান্তবর্তী ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশেও বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কারণ হিমালয় থেকে নেমে আসা বেশ কয়েকটি নদী নেপাল হয়ে ভারতের সমতল অঞ্চলে প্রবাহিত হয়েছে।
উদ্ধারকাজে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা কাজ করছেন। তবে বন্যার পানি না কমা পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জিরং স্থলবন্দরে উদ্ধারকাজে অন্তত ৫৭৪ জন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে চীন। তবে বন্যার সঙ্গে নেমে আসা পলি ও ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিপর্যয় মোকাবিলায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বিভিন্ন দেশ। নেপালের সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করছে ভারত। অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তা, দমকলকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল একটি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
/অ