দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার এই পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে। এর আওতায় ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেওয়া হতে পারে।
রয়টার্সকে পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টায় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দেবেন। ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখা প্রতিষ্ঠান ও দেশের ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে লেখা এক নিবন্ধে বেসেন্ট সোমবারকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ এবং কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের তেল পরিবহনকারী জাহাজ, তেল ক্রেতা ও ইরানের আমদানি ব্যয় মেটাতে সহায়তাকারী মুদ্রা বিনিময়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিমান চলাচল খাতও এর আওতায় আসতে পারে।
ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীনকে এ বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। তবে চীনা ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বেইজিং পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতে চীনের সম্ভাব্য বিধিনিষেধ নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল কোনো সমস্যার সমাধান করে না। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বেইজিং।
এদিকে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তুরস্ক, ইরাক ও ভারতের মতো দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ওই শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি বাতিল করেছে।
অন্যদিকে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা জারি করে তেহরান জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। ইরান ৪৫টি জাহাজকে তাদের নিয়ম লঙ্ঘনকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং এসব জাহাজের সঙ্গে জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তর করা হলে প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সোমবার ইরান সফর করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যেই তাঁর এ সফর।
পাকিস্তানের দুটি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্প মুনিরকে ফোন করেছিলেন। তাদের একজনের দাবি, ইরানকে আবারও আলোচনায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত জানায়নি।
মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, জুনে দুই পক্ষের প্রাথমিক সমঝোতায় যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের অসৎ আচরণের কারণে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের প্রতি অবিশ্বাস আরও বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে সোমবার সৌদি আরবের বন্দরনগরী ইয়ানবুর পশ্চিমে একটি তেলবাহী জাহাজে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা। এতে জাহাজটির মূল ডেকে আগুন ধরে যায়।
ইরানের মিত্র হুথিদের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ওই এলাকায় একটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠানও তাদের একটি জাহাজে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে ইরান ও লেবাননে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানিসহ কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় অচল করে রেখে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। একই সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার আগে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এর আগে টানা দুই সপ্তাহ দাম বাড়ার পর বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়ায় এ পতন হয়েছে।
ইরান কয়েক দিন ধরেই নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে আসছে। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই ইরানকে এখন যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি, ব্যাহত বাণিজ্য, উৎপাদন কমে যাওয়া ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের ব্যয় সামলাতে হচ্ছে। সোমবার দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দর জানুয়ারির তুলনায় ২৫ শতাংশ কমে নতুন রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমেছে।
এমএস/