দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজা উপত্যকা থেকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন ওড়ানোর ঘটনায় হামাসকে সতর্ক করে গাজায় হামলা আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সোমবার বলেছেন, এই প্রবণতা বন্ধ করতে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে।
সপ্তাহান্তে গাজা সীমান্তের কাছে একটি ইসরায়েলি বসতিতে কয়েকটি ঘুড়ি পাওয়া যায়। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার ও শনিবার নাহাল ওজ কিবুতজ এলাকায় চারটি ঘুড়ি পাওয়া যায়। এ ছাড়া গত সপ্তাহে দক্ষিণ ইসরায়েলের আরও কয়েকটি এলাকায় ঘুড়ি পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ঘুড়িগুলোর সঙ্গে কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরক ছিল না এবং এগুলো তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করেনি। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক, বেলুনকে ঘুড়ি এবং ঘুড়িকে ড্রোন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে হামাস নতুন করে ওড়ানো ঘুড়ির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি বলেছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে শৈশব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করা শিশুদের ঘুড়ি এগুলো। ইসরায়েল এসব ঘুড়িকে গাজায় হামলা অব্যাহত রাখার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেছে হামাস।
এর আগে যুদ্ধের সময় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার উপকরণ বহনকারী ঘুড়ি ও বেলুন গাজা থেকে ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছিল। এসবের কারণে ইসরায়েলের বন ও কৃষিজমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল।
এদিকে রোববার গাজার নুসেইরাত শরণার্থীশিবির ও আল-জাওয়াইদা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুইজন নিহত ও সাতজন আহত হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী মোহাম্মদ তাহা নামে এক শিশুও রয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আল-মাগাজি এলাকায় হামাসের অস্ত্র তৈরির একটি স্থাপনার কমান্ডার ইসমাইল আবু ফুলকে লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয় এবং হামলার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরে যেতে সতর্ক করা হয়েছিল।
সোমবার ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি তাঁবুতে রাতের হামলায় মোহাম্মদ আবু আসাদ নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তিনি হামাসের সামরিক শাখার নুখবা বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলায় অংশ নিয়েছিলেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ওই হামলায় ইসরায়েলি হিসাবে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।
গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এরপর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৭৪ হাজার ৪২০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ১ হাজার ২৮৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এমএস/