দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজা উপত্যকায় রোববার দুটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও আরও সাতজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার বছরের এক শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গাজার মধ্যাঞ্চলের জাওয়াইদা শহরের একটি ভবনে প্রথম হামলাটি চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, হামলার আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ভবনটির মালিকদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছিল।
হামলায় ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। চারপাশের কয়েক ডজন মিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষ ও বিস্ফোরণের টুকরায় অন্তত ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চার বছরের শিশু মোহাম্মদ আবদেল-সালাম তাহাও ছিল। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হামলার কাছাকাছি আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আবু আহমেদ বলেন, যুদ্ধবিরতি নেই, কিছুই নেই। আমরা সমাধান চাই, শান্তিতে বাঁচতে চাই।
দ্বিতীয় বিমান হামলাটি কাছের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে চালানো হয় বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। দুই হামলার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতিতে গাজায় বড় ধরনের লড়াই বন্ধ হলেও ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি থামেনি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে আসছে, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে তারা এসব অভিযান চালাচ্ছে।
শনিবার রাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দেইর আল-বালাহ শহরে হামাসের জ্যেষ্ঠ সদস্য শরিফ আল-হাসনাতকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হামাসের ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। সংগঠনটির দাবি, ইসরায়েলের হামলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধ অবসানের বৃহত্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করছে। ওই পরিকল্পনায় ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ও রয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে উপত্যকাটিতে ১ হাজার ২৮০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একই সময়ে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরেও রোববার সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। জেরিকোর কাছে একটি প্রধান সড়কের পাশে গাড়ির কাছে এক ইসরায়েলি ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে আহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনাবাহিনী। হামলাকারীকে ফিলিস্তিনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রকাশিত নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি গাড়ির পাশে অপেক্ষা করছেন। গাড়ির মালিক কাছে আসার পর ওই ব্যক্তি তাঁকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে তাঁকে ধরতে সেনারা অভিযান শুরু করে।
অন্যদিকে নাবলুসের কাছে আসকার শরণার্থী শিবিরে অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ১৪ বছরের এক কিশোর নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। নিহত কিশোরের নাম ইসলাম আজ্জুরি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি ও ৫ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর বসবাস পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক সময়ে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, ভূমি ও সম্পদ দখলের ঘটনা বেড়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও অধিকাংশ দেশ আন্তর্জাতিক আইনে এসব ইসরায়েলি বসতিকে অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এ অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এবং ওই ভূখণ্ডের সঙ্গে তাদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/