দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা আরও বাড়িয়েছে উত্তর কোরিয়া। নতুন করে রাশিয়ায় পাঠানো প্রায় ৮ হাজার ৫০০ উত্তর কোরীয় সেনার মধ্যে ড্রোন ইউনিটও রয়েছে, যারা ইউক্রেনের ভেতরে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও হামলা চালাতে পারে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার উপপ্রধান মেজর জেনারেল ভাদিম স্কিবিৎসকি এ তথ্য জানিয়েছেন। তার দাবি, উত্তর কোরীয় সেনারা ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে সহায়তা করছে। আগামী সেপ্টেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের বৈঠকে আরও ৫০ হাজার সেনা পাঠানোর অনুরোধ জানানো হতে পারে।
দুই বছর আগে রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর আদলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে উত্তর কোরিয়া। নতুন করে সেনা ও সামরিক সহায়তা বাড়ানো হলে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সহযোগিতা আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্কিবিৎসকির ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাশিয়ায় মোতায়েন উত্তর কোরীয় সেনাদের বড় অংশ কুরস্ক অঞ্চলে রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় এক হাজার প্রকৌশলী ও মাইন অপসারণকারী রয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৪০০ ড্রোনচালক রয়েছেন, যাদের অনেকে উত্তর কোরিয়ার আগের মোতায়েন থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাদের ড্রোন ইউক্রেনের ভেতরে নজরদারি ও হামলায় ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ইউক্রেনের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় পাঠানো উত্তর কোরীয় সেনারা সরাসরি ইউক্রেনের ভূখণ্ডে যুদ্ধ করবে না। তারা রাশিয়ার পেছনের প্রতিরক্ষা অবস্থান শক্তিশালী করবে, ফলে ইউক্রেনের ভেতরে হামলার জন্য আরও বেশি রুশ সেনা মোতায়েন করা সম্ভব হবে।
গত অক্টোবরেই ইউক্রেন অভিযোগ করেছিল, উত্তর কোরীয় সেনারা তাদের ভূখণ্ডে হামলাকারী ড্রোন ব্যবহার করছে। তবে নতুন করে পাঠানো সেনাদের মধ্যে ড্রোন হামলার সক্ষমতা থাকার বিষয়টি এবারই প্রথম সামনে এসেছে।
স্কিবিৎসকি জানান, পুতিনের সম্ভাব্য নতুন সেনা অনুরোধের পাশাপাশি এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে মোতায়েন বা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে কুরস্ক অঞ্চলে উত্তর কোরীয় সেনাদের প্রথম মোতায়েন করা হয় ইউক্রেনীয় বাহিনীর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে। দীর্ঘ সময় এ বিষয়ে নীরব থাকার পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে উত্তর কোরিয়া প্রথমবার স্বীকার করে যে, তাদের সেনারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। ধারণা করা হয়, প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল এবং তারা উল্লেখযোগ্য হতাহতের শিকার হয়।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, আহত সেনারা উত্তর কোরিয়ায় ফিরে গিয়ে ড্রোন যুদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অন্য সেনাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।
গত এক বছরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেশটির অভ্যন্তরে উত্তর কোরীয় সেনাদের প্রশিক্ষণের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া গত এপ্রিলে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত উত্তর কোরীয় সেনাদের স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করেন কিম জং উন।
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতেও উত্তর কোরিয়ার সহায়তা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্কিবিৎসকি। তার ভাষ্য, গত বছরের আগস্টের আগে ইউক্রেনে ব্যবহারের জন্য উত্তর কোরিয়া অন্তত ১৫০টি কেএন-২৩ অথবা কেএন-২৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়াকে সরবরাহ করেছিল। পরে আরও ১২০টি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
স্কিবিৎসকি জানান, প্রতিশ্রুত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে ৪০টি ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি গত ৩০ জুলাই দনিপ্রো অঞ্চলের রাদুশনে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ওই হামলায় একই পরিবারের অন্তত চার শিশু নিহত হয়।
তিনি আরও বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সহায়তার জন্য প্রায় ৯০ জন সদস্যকে ভোরোনেজে পাঠানো হয়েছে। উত্তর কোরিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র বহন করে থাকতে পারে এমন ১০টি বড় মালবাহী বিমান ভোরোনেজ এলাকার বাল্টিমোর বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্কিবিৎসকির মতে, উত্তর কোরিয়ার আধুনিক সংস্করণের এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হলেও অনেক সময় লক্ষ্যবস্তু থেকে ১৫ থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়ে। ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তাদের নিশানা নির্ধারণ ও বিস্ফোরক বহনের সক্ষমতা উন্নত করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাশিয়াকে সেনা ও অস্ত্র সরবরাহের বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্কিবিৎসকি। তার দাবি, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে একটি প্যান্টসির-১ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পেয়েছে।
তবে কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং রাশিয়ায় আরও কয়েক হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানোর দাবি নাকচ করেছেন। তিনি এ দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও নিজেদের তৈরি কল্পিত দৃশ্যপট’ বলে মন্তব্য করেছেন।
/অ