দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি এখনও নেতিবাচকের চেয়ে ইতিবাচকই বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৬টি দেশের মধ্যে শ্রীলঙ্কার মানুষ ভারতের প্রতি সবচেয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। বিপরীতে পাকিস্তানে ভারতের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব সবচেয়ে বেশি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে পরিচালিত এ জরিপে ৪২ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। জরিপভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের প্রতি গড়ে ৪৫ শতাংশ মানুষের ইতিবাচক এবং ৪১ শতাংশের নেতিবাচক মনোভাব পাওয়া গেছে।
শ্রীলঙ্কায় ভারতের প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন ৭৯ শতাংশ উত্তরদাতা। বিপরীতে মাত্র ১১ শতাংশের মত নেতিবাচক। দেশটির ৬৩ শতাংশ মানুষ ভারতকে তাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবেও বিবেচনা করেন। ২০২৪ সালের জরিপে শ্রীলঙ্কায় ভারতের প্রতি ইতিবাচক মত ছিল ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে ভারতের ভাবমূর্তিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-শ্রীলঙ্কা সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা এর অন্যতম কারণ। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও ব্যাপক গণবিক্ষোভের সময় ভারত দেশটিকে উল্লেখযোগ্য সহায়তা দেয়। ঋণসুবিধা ও আর্থিক সহায়তা মিলিয়ে ভারতের সহায়তার পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। এ সহায়তা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে মনোভাব একরকম নয়। বাংলাদেশে ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা ভারতের প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন, আর ৫১ শতাংশের মত নেতিবাচক। দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ হিসেবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশে অবশ্য ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। জাপানে ৫৫ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ৫১ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ায় ৫০ শতাংশ মানুষ ভারতের প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন। ফিলিপাইনে এ হার ৪৯ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডে ৫৫ শতাংশ।
ভারতের প্রতি সবচেয়ে নেতিবাচক মনোভাব পাকিস্তানে। দেশটির ৯১ শতাংশ উত্তরদাতা ভারতের প্রতি নেতিবাচক মত দিয়েছেন, বিপরীতে মাত্র ৭ শতাংশের মত ইতিবাচক। দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি ২০২৫ সালের মে মাসের সংঘাত এবং সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত নিয়ে বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে পরবর্তী সামরিক উত্তেজনাও দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে প্রভাব ফেলেছে।
পাকিস্তানের পর তুরস্ক ও পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের হারও তুলনামূলকভাবে কম। তুরস্কে মাত্র ১৫ শতাংশ এবং পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা ভারতের প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় ৫৫ শতাংশ মানুষের মত নেতিবাচক।
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের ভাবমূর্তি প্রায় বিভক্ত। দেশটির ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা ভারতের প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন, আর ৫০ শতাংশের মত নেতিবাচক। পিউ-এর হিসাবে, ২০০৮ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের অন্যতম নিম্ন পর্যায় এটি। ২০২৩ সালে যেখানে ৫১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ভারতের প্রতি ইতিবাচক ছিলেন, ২০২৬ সালে তা কমে ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন রাজনৈতিক বিভাজনও ভারতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাব ফেলেছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৫০ শতাংশ ভারতের প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার ৪২ শতাংশ।
ভারতের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও মার্কিন নাগরিকদের মত বিভক্ত। প্রায় ৩০ শতাংশ মনে করেন, বিশ্বে ভারতের প্রভাব বাড়ছে। ৫৪ শতাংশের মতে, ভারতের প্রভাব মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ১৩ শতাংশ মনে করেন, ভারতের প্রভাব কমছে।
সব মিলিয়ে পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে ভারতের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিতে একটি স্পষ্ট আঞ্চলিক বিভাজন ফুটে উঠেছে। এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হলেও ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকায় চিত্রটি বেশি মিশ্র। যুক্তরাষ্ট্রেও ভারত নিয়ে মতামত বিভক্ত। আর প্রতিবেশী দুই দেশ শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান ভারতের প্রতি বৈশ্বিক মনোভাবের দুই বিপরীত প্রান্তে অবস্থান করছে।
যে আই