দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্বের জন্য এটিকে এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ বলেন, রাশিয়ার কারণে গণতন্ত্রকে জিম্মি রাখা উচিত নয়। তিনি বলেন, ইউক্রেন লড়াই করছে কারণ তারা একটি স্বাধীন ও ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে চায়।
রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে। এর ফলে দেশটিতে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
ভিডিওতে ফেদোরভ সরাসরি জেলেনস্কির নাম উল্লেখ করেননি। তবে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে তাকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করা হয়। মাত্র ছয় মাস আগে তিনি ওই দায়িত্বে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তার বরখাস্তের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভও হয়েছিল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালে মন্ত্রণালয়ে গতি আনতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করতে এবং সম্মুখসারির যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও কার্যকারিতা বাড়াতে তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য ফেদোরভ প্রশংসিত হন।
সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কির সঙ্গে ফেদোরভের টানাপোড়েনের কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়। কয়েক সপ্তাহ পর সিরস্কিকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ জেলেনস্কির ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
ইউটিউব ভিডিওতে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি ফেদোরভ। বরং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার জন্য একটি আইনসম্মত, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
ফেদোরভ আরও বলেন, দেশটি শাসনব্যবস্থার একটি পদ্ধতিগত সংকটের মুখে রয়েছে এবং পরিবর্তন নিয়ে ভয় পাচ্ছে। ইউক্রেনের দুর্নীতিও যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে জেলেনস্কি ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে রাজনৈতিকভাবে কম পরিচিত গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইয়েভগেনি খমারাকে নিয়োগ দিয়েছেন।
ফেদোরভকে সামরিক উদ্ভাবনবিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রীর মতো অন্যান্য দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেই কেবল দায়িত্বে ফিরতে চান।
এর আগে ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী থাকাকালে ফেদোরভ ইউক্রেনের স্বেচ্ছাসেবী ‘আইটি আর্মি’ গড়ে তুলেছিলেন, যা রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা পরিচালনায় ভূমিকা রাখে। পরে তিনি ‘আর্মি অব ড্রোনস’ নামে সফল তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন এবং যুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন কৌশল চালু করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পরও ড্রোন, উচ্চপ্রযুক্তির যুদ্ধব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে গুরুত্ব দেন ফেদোরভ। রাশিয়ার ড্রোন হামলায় স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করতে স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের কাছেও তিনি অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
বরখাস্ত হওয়ার পর এক ফেসবুক পোস্টে নিজের সাফল্যের কথা তুলে ধরে ফেদোরভ জানিয়েছিলেন, উদ্ভাবনের গতি, অসমমিত কৌশল ও সাংগঠনিক সক্ষমতার মাধ্যমে শত্রুকে পরাজিত করার প্রচেষ্টা তিনি অব্যাহত রাখবেন।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/