দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য মধ্যপ্রদেশের পান্নায় খনি থেকে ১৭ দশমিক ৯৬ ক্যারেটের একটি হীরা পেয়েছেন সাত দরিদ্র শ্রমিক। তাদের দাবি, এই হীরা তাদের জীবন বদলে দিতে পারে।
দুই বছর আগে পান্নার সারোখা গ্রামে একটি খনি ইজারা নিয়েছিলেন আকিলেশ পালসহ সাত শ্রমিক। দীর্ঘদিন খনন করেও কোনো মূল্যবান পাথরের সন্ধান না পাওয়ায় এক বছর খনিটি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি পাশের আরেকটি খনিতে কাজ শুরুর পর পুরোনো খনিটি পরিদর্শন করতে গিয়ে হীরাটি পাওয়া যায়।
হীরাটি ওজন করে ১৭ দশমিক ৯৬ ক্যারেট পাওয়া গেছে। পান্নার হীরা দপ্তরের কর্মকর্তা রবি প্যাটেল জানিয়েছেন, এটি জেম কোয়ালিটির হীরা, অর্থাৎ প্রাকৃতিক হীরার অন্যতম উন্নত মানের ধরন।
প্যাটেল বলেন, মূল্যবান এই হীরাটি আগামী অক্টোবরের প্রথমার্ধে সরকারি নিলামে তোলা হবে। এর সম্ভাব্য মূল্য অন্তত ৫০ লাখ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০ লাখ টাকার সমান।
ভারতের হীরা উৎপাদনের অন্যতম প্রধান অঞ্চল পান্না। তবে অঞ্চলটি দেশটির অপেক্ষাকৃত অনুন্নত এলাকাগুলোর একটি। সেখানে দারিদ্র্য, পানির সংকট ও বেকারত্ব দীর্ঘদিনের সমস্যা। কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় স্থানীয় অনেক মানুষ ভাগ্য বদলের আশায় হীরা খননের সঙ্গে যুক্ত হন।
তবে পান্নার অধিকাংশ হীরা খনিশ্রমিক দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে ইজারাদারদের অধীনে কাজ করেন। ফলে তারা হীরা পেলেও সাধারণত এর অর্থ পান ইজারাদাররা। সর্বশেষ পাওয়া হীরাটির ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে, কারণ সাত শ্রমিকই খনিটির ইজারাদার।
সরকারি নিলামে হীরাটি বিক্রির পর বিক্রয়মূল্য থেকে ১২ শতাংশ রয়্যালটি কেটে নেওয়া হবে। বাকি অর্থ সাত শ্রমিকের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শ্রমিকদের কয়েকজনের জন্য এই অর্থ হতে যাচ্ছে জীবনের বড় পরিবর্তন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিন শ্রমিক জানিয়েছেন, আর্থিক সংকটের কারণে এতদিন তাদের বিয়ে করাও সম্ভব হয়নি। হীরার এই অর্থ দিয়ে এবার তারা বিয়ের পরিকল্পনা করছেন।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/