দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন আগামী ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর পুনর্নিয়োগ চাইবেন না বলে জানিয়েছেন। তার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারার পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
৬৩ বছর বয়সী চন্দ্রশেখরন জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে তার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পর্ষদে তোলা হয়েছিল। তবে একজন সদস্য এতে সমর্থন না দেওয়ায় তিনি সিদ্ধান্তটি স্থগিত রাখেন। ছয় মাস পরও এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্য না হওয়ায় পুনর্নিয়োগের জন্য আর আবেদন না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
চন্দ্রশেখরনের পদত্যাগের খবরে তালিকাভুক্ত টাটা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। টাটা গ্রুপের অধীনে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া, টাটা স্টিল ও জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের মতো বড় প্রতিষ্ঠান।
চন্দ্রশেখরনের পদ ছাড়ার ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন টাটা সন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা সামনে এবং কয়েক মাস ধরে গ্রুপটির শীর্ষ পর্যায়ে বোর্ডরুমের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা চলছে।
টাটা গ্রুপের কাঠামোও অন্য বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলোর তুলনায় আলাদা। দাতব্য প্রতিষ্ঠান টাটা ট্রাস্টস গ্রুপটির মূল প্রতিষ্ঠান টাটা সন্সের ৬৬ শতাংশ মালিক। এই কাঠামো টাটা গ্রুপকে কর ও নিয়ন্ত্রক সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দাতব্য ও বাণিজ্যিক—দুই ধরনের লক্ষ্য একসঙ্গে পরিচালনার কারণে কখনো কখনো গ্রুপটির সুশাসন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
টাটা সন্সের পরিচালনা পর্ষদে টাটা ট্রাস্টসের তিনজন প্রতিনিধি রয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডে পরিচালক নিয়োগ, অর্থায়নের অনুমোদন এবং টাটা সন্সকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার মতো বিষয় নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। তবে টাটা গ্রুপ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
২০১৭ সালে টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন চন্দ্রশেখরন। এর আগে তিনি গ্রুপটির শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ১৯৮৭ সালে টাটা গ্রুপে যোগ দেওয়া চন্দ্রশেখরনকে ২০১৭ সালে চেয়ারম্যান নিয়োগের সময় ‘টাটা লাইফার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
চেয়ারম্যান হিসেবে তার নিয়োগ হয়েছিল প্রয়াত সাইরাস মিস্ত্রির স্থলাভিষিক্ত হয়ে। চেয়ারম্যান পদ থেকে মিস্ত্রির আকস্মিক অপসারণের পর টাটা গ্রুপের সঙ্গে তার দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষক অম্বরিশ বালিগার মতে, চন্দ্রশেখরনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তির এভাবে পদ ছাড়ার ঘোষণায় বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হওয়া স্বাভাবিক। তবে নতুন চেয়ারম্যান বেছে নেওয়ার জন্য টাটা গ্রুপের হাতে ছয় মাস সময় রয়েছে। তার ধারণা, পরবর্তী চেয়ারম্যান গ্রুপের অভ্যন্তর থেকেই আসার সম্ভাবনাই বেশি।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/