দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জার্মানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন লাথি মেরে আকাশ থেকে ফেলে দিয়ে সম্ভাব্য হামলা ঠেকিয়েছেন এক বাসচালক।
শুক্রবার দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাতে লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে। কর্মরত অবস্থায় নিচু দিয়ে উড়তে থাকা ড্রোনটি দেখতে পান ওই বাসচালক। এরপর তিনি সেটিকে লাথি মারেন। ড্রোনটি কাছেই মাটিতে পড়ে যায়।
জার্মানির সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, ড্রোনটিতে পেশাদার মানের বিস্ফোরক ও বিস্ফোরণ ঘটানোর যন্ত্র ছিল। ঘটনাটি নিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত শুরু হয়েছে।
সরকারি দলের আইনপ্রণেতা ডেটলেফ জাইফ সাংবাদিকদের বলেন, বাসচালকের সাহসী পদক্ষেপ সম্ভাব্য একটি হামলা ঠেকিয়ে দিতে পারে। তবে তিনি একই সঙ্গে ঘটনাটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন।
স্যাক্সনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর্মিন শুস্টারও বাসচালকের প্রশংসা করেছেন। তবে এমন পরিস্থিতিতে অন্যদের একই ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোই যথেষ্ট হতো।
লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরটি ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি ন্যাটোর কৌশলগত বিমান পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান কার্যক্রম কেন্দ্র, যেখানে আনতোনভ উড়োজাহাজের মাধ্যমে জোটের পূর্বাঞ্চলের প্রতিরক্ষা জোরদারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিবহন করা হয়। বিমানবন্দরটি পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের কয়েকটি আনতোনভ এএন-১২৪ পণ্যবাহী উড়োজাহাজের কাছাকাছি ড্রোনটি পাওয়া যায়। বুধবার সকালে একটি উড়োজাহাজের পাশে পুলিশকে আলামত সংগ্রহ করতেও দেখা যায়।
তবে ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছিল এবং কীভাবে বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ করেছিল, তা এখনো জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ বাসচালকের পরিচয়ও প্রকাশ করেনি।
ঘটনার পর জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ফোনে বৈঠক করেন। সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্টসহ মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
জার্মানি এর আগেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সীমা অতিক্রম না করা বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা বা ‘ছায়াযুদ্ধ’ চালানোর অভিযোগ তুলেছে। তবে মস্কো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরের ড্রোনের ঘটনা নিয়ে রাশিয়ার দূতাবাসও এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: রয়টার্স
/অ