দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ আরও সীমিত করতে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত কয়েক সপ্তাহ আগে সংবিধান অনুযায়ী জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বহাল রাখার রায় দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার তিনি এ পদক্ষেপ নেন।
নতুন আদেশ দুটি ট্রাম্পের আগের উদ্যোগের তুলনায় অনেক সীমিত পরিসরের। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুকেই বর্তমানে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।
নতুন আদেশের একটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিদ্যমান একটি সীমিত ব্যতিক্রমের পরিধি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বিদেশি কূটনীতিক বা আক্রমণকারী বাহিনীর সদস্যদের সন্তানরা এ সুবিধা পায় না। ট্রাম্পের নতুন আদেশ অনুযায়ী, অভিযোগে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সন্তান, নাগরিকত্ব ‘কেনার’ চেষ্টা করছে বলে বিবেচিত ব্যক্তিদের সন্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া নির্দিষ্ট কিছু শিশুকেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বাইরে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রীকে শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে মায়েদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের প্রচলিত পদ্ধতি বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের আগের নির্বাহী আদেশের মতো নতুন আদেশ দুটিও আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার আগের উদ্যোগ বাতিল করায় সর্বোচ্চ আদালতের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আদালত ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে ‘একটি প্রহসনে’ পরিণত করেছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তার প্রশাসন এ বিষয়ে নিজেদের কৌশলে ‘পরিবর্তন’ আনছে।
দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিন, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী নতুনভাবে ব্যাখ্যা করে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের আওতা সংকুচিত করার লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন।
সেই আদেশে বলা হয়েছিল, অস্থায়ী ভিসাধারী বা বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিচারিক এখতিয়ারের আওতায়’ পড়ে না। ফলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য নয়।
তবে গত জুনে সর্বোচ্চ আদালত রায় দেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের সেই উদ্যোগ সংবিধানবিরোধী। আদালত সংবিধানের নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত ধারার উল্লেখ করে জানায়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংকুচিত করার চেষ্টা আইনসম্মত নয়।
রায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলা হয়, কংগ্রেস যদি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারীদের সন্তানদের মধ্যেই নাগরিকত্ব সীমিত রাখতে চাইত, তবে সংবিধানের নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত ধারার সংক্ষিপ্ত ভাষায় তার কোনো ইঙ্গিত নেই।
অভিবাসন প্রশ্নে কঠোর অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগে সর্বোচ্চ আদালতের রায় তার দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়।
নয় সদস্যের সর্বোচ্চ আদালতে রক্ষণশীল বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ছয় বিচারপতি ট্রাম্পের উদ্যোগের বিপক্ষে মত দেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের মূল যুক্তি ছিল, সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী কেবল সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত দাসদের সন্তানদের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল এবং ১৮৬৮ সালে এটি অনুমোদনের পর থেকে এর ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার রায়ে লেখেন, এ ধরনের সংশোধিত ব্যাখ্যার পক্ষে খুবই সামান্য প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেন, চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা ‘এই ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক স্বাধীন মানুষকে’ সেই সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন এবং আদালত আজও সেই অঙ্গীকার রক্ষা করছে।
সংবিধানবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশগুলোরও আদালতে টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ কিম্বারলি ওয়েহলে আল জাজিরাকে বলেন, নতুন আদেশগুলোও সম্ভবত সংবিধানবিরোধী হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে তার ধারণা, জনসমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প তার কট্টর ডানপন্থী সমর্থকদের কাছে বার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
তার ভাষায়, ট্রাম্প নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের সাংবিধানিক কর্তৃত্বের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। অনেক দিক থেকেই তার পরিস্থিতি অনুকূলে নেই, তাই ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া একটি বিষয়কে তিনি রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।
/অ