দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার দাবি জানিয়েছে ইরান।
মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এ দাবি জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, অস্থায়ী পরিকল্পনার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর বিষয়ে তথ্য জানার সুযোগ চায় তেহরান। প্রয়োজনে এসব জাহাজের চলাচলে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতাও রাখতে চায় দেশটি।
তিনি জানান, বর্তমানে আলোচনায় থাকা ‘মূল ধারণা’ হলো—প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি পথ ব্যবহার করবে। জাহাজগুলো ইরানকে অবহিত করার পর ওমানের মাধ্যমে বের হওয়ার অনুমতি পাবে।
ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তেহরান সম্ভবত তার অবস্থান পরিবর্তন করবে না।’ তবে তিনি জানান, এর আগে প্রণালির উভয় দিকের জাহাজ চলাচলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি থেকে সরে এসে ইরান কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে।
গত মাসে ওমানের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে সমানভাবে জাহাজ চলাচলের পথ ভাগ করে দেওয়ার একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান। তেহরানের দাবি ছিল, দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ওই প্রস্তাবে ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান নেই।
পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যবর্তী সরু এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনের প্রধান রুট এই হরমুজ প্রণালি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালিটি প্রায় অবরুদ্ধ রয়েছে। হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতবিরোধ এখনো আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়।
ওয়াশিংটনের দাবি, জুনে যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকে ইরানের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ইরান বলছে, ওই নথিতে জাহাজ চলাচলের ওপর তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে রাখা হয়েছে।
যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। জলপথটি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক পানিসীমার মধ্যে অবস্থিত হলেও সাধারণভাবে এটি আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে বিবেচিত হয়।
জাতিসংঘের নৌ চলাচল সংস্থা ১৯৬৮ সালে আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্মতিতে দুই দিকের জাহাজ চলাচলের জন্য পৃথক পথ নির্ধারণ করে। এর ফলে ইরান ও ওমানের পানিসীমার মধ্য দিয়ে বর্তমান নৌ চলাচল ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
প্রায় ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে যাওয়ার প্রধান পথ। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি সারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সূত্র: রয়টার্স
/অ