দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাম্প্রতিক ১৫ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি।
মোহেব্বি বলেন, ৮ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে এসব হামলা চালানো হয়।
তার দাবি, ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১৭টি নজরদারি ও অভিযানে ব্যবহৃত ড্রোন, যার মধ্যে আটটি ছিল একেবারে নতুন। এ ছাড়া শক্তিশালী সুরক্ষিত আশ্রয়ে রাখা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে মাটিতে থাকা অবস্থায় এসব উড়োজাহাজে হামলা চালানো হয়। তবে এসব ঘাঁটির অবস্থান তিনি উল্লেখ করেননি।
আইআরজিসির এই মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ইরানের হামলায় নয়টি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, পাঁচটি উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা, ছয়টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, তিনটি আকাশ ও নৌ নজরদারি রাডার, আটটি নজরদারি ও আগাম সতর্কীকরণ রাডার, সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, পাঁচটি অবস্থান নির্ধারণ ব্যবস্থা রাডার, পাঁচটি অতিরিক্ত দূরপাল্লার রাডার, দুটি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, একটি কৌশলগত রাডার কমপ্লেক্স, ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র হ্যাঙ্গার, ১৭টি অস্ত্রভান্ডার, ১২টি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক, তিনটি রসদ কেন্দ্র, ছয়টি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, চারটি বহুমুখী রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, একটি জ্বালানি জেটি, একটি চালকবিহীন নৌযান সংরক্ষণাগার, একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র, চারটি যুদ্ধবিমান হ্যাঙ্গার, চারটি হেলিকপ্টার এবং ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
মোহেব্বি আরও দাবি করেন, সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর ইরানের হামলায় দুই শতাধিক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে হতাহতের তথ্য দিয়েছে, তা তিনি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেন।
তার ভাষ্য, ইরানি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সেনা অবস্থানরত আটটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি স্থাপনায় থাকা ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা সরকারি হিসাবে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে দাবি করে মোহেব্বি বলেন, হামলার স্থানগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দিয়ে স্বাধীনভাবে হতাহতের তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া উচিত।
একই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্য, উপসাগরীয় দেশসহ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী যেকোনো দেশকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ বলে সতর্ক করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র।
তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান পরিচালিত হয়েছে। লন্ডন যদি ওয়াশিংটনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাজ্যও ‘নিশ্চিত ও বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মোহেব্বি আরও বলেন, সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান নির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে।
এ ছাড়া ইসরায়েলকে আবারও সামরিক অভিযান শুরু না করার সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি দাবি করেন, সংঘাত পুনরায় শুরু হলে তেহরান ‘গুরুতর পরিণতি’ ডেকে আনবে।
তার অভিযোগ, ইসরায়েল নিজেদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চলে সামরিকভাবে সম্পৃক্ত রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিভ্রান্তিকর গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ইরান আবারও সামরিক অভিযান শুরু করলে কী পরিণতি হবে, সে বিষয়ে ইসরায়েলের ধারণা রয়েছে।
/অ