দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে অপসারণের পক্ষে ভোট দিয়েছে আদালতের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিজ)। তবে তার আইনজীবী দল দাবি করেছে, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভোটের মাধ্যমে করিম খানকে অপসারণ করা হয়। এমন এক সময়ে এ সিদ্ধান্ত এলো, যখন ২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছে আইসিসি।
করিম খানের আইনজীবী দলের প্রধান তাইয়াব আলী বলেন, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি সংস্থার (ইউএন অফিস অব ইন্টারনাল ওভারসাইট সার্ভিসেস) তদন্তের পূর্ণাঙ্গ নথি পর্যালোচনা করে একটি বিচারিক প্যানেল সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে, করিম খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্ত শুধু করিম খানের জন্য নয়, আইসিসির স্বাধীনতার জন্যও গুরুতর প্রভাব ফেলবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, প্রক্রিয়াগতভাবে অন্যায্য এবং স্বাধীন বিচারিক সংস্থার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করা আদালতের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে।”
তাইয়াব আলীর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও আদালতের ওপর রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই নির্বাহী ভোটের মাধ্যমে করিম খানকে অপসারণ করা হয়েছে। তার ভাষায়, “এ সিদ্ধান্ত প্রমাণ বা স্বাধীন বিচারকদের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
প্রায় দুই বছর আগে প্রথম যৌন অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর গত জুনে একটি তদারকি প্যানেল ‘গুরুতর অসদাচরণের’ অভিযোগ তুলে করিম খানকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সুপারিশ করেছিল। এরপর শুক্রবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণ করা হয়।
আইসিসি জানিয়েছে, নতুন প্রধান কৌঁসুলি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত উপ-প্রধান কৌঁসুলি নাজহাত শামিন খান ও মামে মান্দিয়ায়ে নিয়াং যৌথভাবে কৌঁসুলির দপ্তরের দায়িত্ব পালন করবেন।
অভিযোগকারী, যিনি ‘সারা’ ছদ্মনামে পরিচিত, সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, করিম খান একাধিকবার তার শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন। তবে করিম খান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার আইনজীবীরা পুরো প্রক্রিয়াকে অন্যায্য ও প্রমাণবিহীন বলে দাবি করেছেন।
করিম খান দায়িত্বে থাকাকালে একাধিক আন্তর্জাতিক সংঘাতের তদন্ত পরিচালনা করেন। তবে ২০২৪ সালে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার সিদ্ধান্তের পর তিনি ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েন।
সাবেক ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান জোসেপ বোরেল এক সম্পাদকীয়তে লিখেছেন, করিম খানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপটি মূলত আইসিসির বিরুদ্ধে বৃহত্তর চাপ প্রয়োগের অংশ।
অপসারণের ফলে এখন নতুন প্রধান কৌঁসুলি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে আগামী বছরের আগে এ বিষয়ে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এদিকে ২০২৪ সালে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর এ সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ, ওই পরোয়ানা প্রত্যাহারের ক্ষমতা কেবল আইসিসির বিচারকদের রয়েছে।
তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের কর্মকর্তারা আইসিসির তদন্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন অপরাধের অভিযোগ থেকে দৃষ্টি সরাতেই করিম খান ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসে ফিলিস্তিনি মিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, আইসিসির তদন্ত ও ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে করিম খানের অপসারণকে যুক্ত করার চেষ্টা অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কৌঁসুলির দপ্তর রোম সংবিধির আওতাভুক্ত সব মামলায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে, যাতে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/