দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট ও আদালতের এক জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘোষণা দেন। হেগভিত্তিক আদালটির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান অভিযানের সর্বশেষ পদক্ষেপ এটি।
২০০২ সালে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই আদালতের সদস্য নয়।
রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, জাপানি বিচারক ও আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকাশি এবং সেনেগালের নাগরিক ও আদালতের জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত বছর ট্রাম্পের জারি করা একটি নির্বাহী আদেশের আওতায় এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
রুবিওর অভিযোগ, আইসিসির এখতিয়ার মেনে নেয়নি—এমন সরকারের কর্মকর্তাদের তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক বা বিচারের উদ্যোগে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এই দুই ব্যক্তি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে আইসিসি। আদালত এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আইনের শাসনকে দুর্বল করে।
বিবৃতিতে আইসিসি আরও বলেছে, বিচারিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কারণে বিচারকদের হুমকির মুখে ফেলা হলে আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
সেয়ে আইসিসির সেই কৌঁসুলি দলের সদস্য, যারা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিল। তাকে আইসিসির বিচারক পদে নির্বাচনের জন্যও মনোনীত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপে ইউরোপের মিত্রদের সঙ্গেও ওয়াশিংটনের মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। আইসিসির সদর দপ্তর যে দেশে অবস্থিত, সেই নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকাশিকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং আদালটির প্রতি নেদারল্যান্ডসের অব্যাহত সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোকে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে।
গত বছরের ডিসেম্বরে আইসিসির প্রধান বিচারক আকাশি সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দ্রুত আদালতের কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং এর অস্তিত্বকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
এর আগে গত বছরও আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তা, প্রসিকিউটর ও বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের পুরোনো তদন্তকে কেন্দ্র করে এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ করা যায় এবং তাদের মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়। মঙ্গলবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আকাশি ও সেয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেন বন্ধ করার জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়ে একটি সাধারণ অনুমোদনও জারি করেছে।
নেতানিয়াহুকে ‘রক্ষার’ অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা
আইসিসির তিন বিচারক গত জুনে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা বেআইনি।
এ ছাড়া বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও পৃথক দুটি মামলায় অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযান বিশ্বজুড়ে সংঘটিত নৃশংসতার বিচারে আইসিসির সঙ্গে কাজ করা সংগঠনগুলোর সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।
রুবিও গত মাসে বলেছিলেন, আইসিসিকে দুর্বল করতে আরও পদক্ষেপ নেবে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে অন্যান্য দেশকে আইসিসি থেকে বেরিয়ে আসতে উৎসাহিত করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও রয়েছে। অন্তত পাঁচটি দেশ ইতোমধ্যে এ আহ্বানে সাড়া দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
রুবিওর যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি বা মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে হামলার মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত মার্কিন কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের জন্য আইসিসি হুমকি তৈরি করছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এ অভিযান মূলত নেতানিয়াহু ও অন্যদের বিচার থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসির সদস্য ছিল না। আইসিসি সাধারণত কোনো দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা নৃশংসতার বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলে সে বিষয়ে এখতিয়ার প্রয়োগ করে। তবে আদালতের প্রতিষ্ঠাকালীন সনদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধী অ-সদস্য দেশের নাগরিক হলেও আইসিসি বিচারিক এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/