দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার, সামরিক উপদেষ্টা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন–সংক্রান্ত সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ইরান। গত ১৩ জুলাই এসব সদস্য ও সরঞ্জামবাহী একটি উড়োজাহাজ তেহরান থেকে ইয়েমেনে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
চারটি পৃথক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ওই ফ্লাইটে ১০ থেকে ২১ জন আইআরজিসি সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ কমান্ডারও ছিলেন। উড়োজাহাজটি প্রথমে হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানায় অবতরণের কথা থাকলেও বিমানবন্দরে হামলার কারণে পরে লোহিত সাগর উপকূলীয় হোদেইদা বন্দরে অবতরণ করে।
একটি সূত্রের দাবি, হুথিদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের সামরিক অভিযানকে সহায়তা করতেই আইআরজিসি কমান্ডারদের পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে হুথিদের কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের জন্য উড়োজাহাজে স্বর্ণও পাঠানো হয়।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে তেহরান বারবার হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হুথি-সংশ্লিষ্ট এক গণমাধ্যম কর্মকর্তা, যিনি দাবি করেছেন তিনি ওই ফ্লাইটে ছিলেন, রয়টার্সকে বলেন, সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠানোর অভিযোগ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’। তার দাবি, উড়োজাহাজটির সব যাত্রীই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটটি ইয়েমেনে পৌঁছানোর তিন দিন পর ইরান হুথিদের লোহিত সাগরের তেল পরিবহন রুট বন্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছিল। এরপর গত সোমবার হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলারও দাবি করে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ও সৌদি-সমর্থিত সরকারের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরিয়ানি রয়টার্সকে বলেন, আইআরজিসি সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম ইয়েমেনে পাঠানোর তথ্য তাদের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রয়েছে। তার ভাষ্য, হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল হুমকির মুখে ফেলাই এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুজাহেম আলসালুমও জানিয়েছেন, ১৩ জুলাইয়ের ওই ফ্লাইটে আইআরজিসির বিশেষজ্ঞরা ইয়েমেনে পৌঁছান। তার দাবি, উড়োজাহাজটিতে স্বল্প ও মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন–সংক্রান্ত বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ছিল। এসব অস্ত্র অতীতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল।
চলতি মাসের শুরুতে হুথিরা সানা ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেয়। তাদের দাবি, সৌদি আরবের আরোপিত অবরোধ ভাঙতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ২০ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১৩ জুলাইয়ের ফ্লাইটটি মূলত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া হুথি প্রতিনিধি দল এবং চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা ইয়েমেনি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে পরিচালিত হয়েছিল।
তবে রয়টার্সের চারটি সূত্রের দাবি, ওই প্রতিনিধি দলের পাশাপাশি একই ফ্লাইটে আইআরজিসির কমান্ডার ও সামরিক উপদেষ্টারাও ইয়েমেনে ফেরেন। সানায় অবতরণের আগেই সৌদি-সমর্থিত সরকারের হামলার কারণে উড়োজাহাজটি হোদেইদায় অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/