দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবকে ভবিষ্যতে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
চুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো—আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তুলনামূলক কম তদারকিতে সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা। সমালোচকদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের প্রতিযোগিতা ত্বরান্বিত করতে পারে।
তবে ইরানে এ নিয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলি জেইনিভান্দ বলেছেন, যদি অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়, তাহলে ইরানেরই বেশি সুবিধা হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, কিছু দেশকে পারমাণবিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে তা অস্বীকার করা হচ্ছে।
ইরানের কট্টরপন্থী দৈনিক হামশাহরিও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে দাবি করেছে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে এখন সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যদিও ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় সৌদি সরকারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ দেশটি বরাবরই অস্বীকার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়নি।
এদিকে ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে তেল আবিব আগে থেকেই অবগত ছিল। তবে চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে তারা মনে করছে এবং হোয়াইট হাউস ও মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে এতে প্রভাব রাখার চেষ্টা চালাবে।
ইসরায়েলের প্রধান উদ্বেগ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি নিয়ে। দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ২০০৯ সালের পারমাণবিক চুক্তির নজিরকে দুর্বল করতে পারে এবং ভবিষ্যতে মিসর, তুরস্কসহ অন্য দেশগুলোকেও একই ধরনের সুবিধা দাবি করতে উৎসাহিত করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি দেশটির আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট। তবে সৌদি আরব আগেই জানিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট পথ তৈরি না হলে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না।
মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো—ইসরায়েলকে দীর্ঘদিন ধরেই অনানুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে ইরান অস্ত্রমানের কাছাকাছি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যদিও তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোয়, তাহলে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটতে পারে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৮ সালেই বলেছিলেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করলে সৌদি আরবও যত দ্রুত সম্ভব একই সক্ষমতা অর্জন করবে।
মার্কিন জ্বালানি দপ্তর জানিয়েছে, এটি একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি। তবে সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার আগে যৌথ মার্কিন-সৌদি দল এর প্রয়োজনীয়তা ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করবে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১০ বছর সৌদি আরব নিজস্ব সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি তৈরি বা অন্য দেশ থেকে সংগ্রহ করতে পারবে না।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/