দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের গুয়াংডং প্রদেশের জিয়েয়াং শহরে একটি পথকুকুর ও তার তিনটি বাচ্চাকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ১৪ বছরের কম বয়সী চার কিশোর লাঠি দিয়ে কুকুরছানাগুলোকে আঘাত করছে এবং পরে মা কুকুরটিকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে। পুরো ঘটনায় অভিযুক্তদের হাসতে দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার পর চীনা কর্তৃপক্ষ জনগণকে ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানায়। এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি থেকে বিরত থাকতে হবে এবং তাদের সুস্থ বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এ-সংক্রান্ত বহু পোস্ট ও মন্তব্য সরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে সেন্সরশিপ জনরোষ কমাতে পারেনি। বরং প্রাণী অধিকারকর্মীরা চীনের বাইরে গিয়েও এ ঘটনার বিচার দাবিতে প্রচার শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিলবোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে।
চীনে এখনও সামাজিক মাধ্যমে "ওয়াং ওয়াং"—নিহত মা কুকুরটির নাম—এবং "প্রাণী সুরক্ষা" বিষয়ক আলোচনা চললেও অনেক পোস্ট মুছে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, অন্যের পোস্ট শেয়ার করার ক্ষেত্রেও তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্ত চার কিশোরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে না। পরিবর্তে তাদের একটি "বিশেষায়িত বিদ্যালয়ে" পাঠানো হবে। তবে প্রতিষ্ঠানটির ধরন বা সেখানে কী ধরনের পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অভিযুক্তদের পরিচয় সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি। যদিও সামাজিক মাধ্যমে তাদের মুখ দেখানো ভিডিওর অংশবিশেষ এবং যাচাইবিহীন কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিরীহ অন্য শিশুদের ভুলভাবে শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বিশ্বের অনেক দেশেই অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের পরিচয় গোপন রাখার বিধান রয়েছে, যাতে অতিরিক্ত প্রচারের কারণে তাদের মানসিক ক্ষতি না হয়। চীনা কর্তৃপক্ষও একই যুক্তি সামনে আনলেও, দেশটিতে প্রাণী নির্যাতনবিরোধী পৃথক কোনো আইন না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
চীনের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও প্রাণী সুরক্ষার দাবিতে সরব হয়েছিলেন। তবে অভিনেতা ডু জিয়াং ও তাইওয়ানের অভিনেত্রী জো চেনের এ-সংক্রান্ত সামাজিক মাধ্যমের পোস্টও পরে আর দেখা যায়নি। সেগুলো স্বেচ্ছায় সরানো হয়েছে নাকি সেন্সরের কারণে মুছে ফেলা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়।
প্রাণী অধিকারকর্মীদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে চীনে একের পর এক প্রাণী নির্যাতনের ঘটনা এবং এই ভিডিওর নৃশংসতা জনমনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। পূর্ব চীনের এক প্রাণীপ্রেমী বিবিসি চাইনিজকে বলেন, "আমরা দেশে আমাদের কথা বলতে পারছি না। তাই বিদেশে অনেক মানুষ আমাদের হয়ে এই বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।"
ইতালিভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর অ্যানিমাল প্রোটেকশন জানিয়েছে, চীনের ঘটনায় হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তারা শতাধিক অভিযোগ পেয়েছে। সংস্থাটি এ বিষয়ে চীনা কর্তৃপক্ষের কাছেও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চীনে প্রাণী নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
এমএস/