দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হুথিদের ঘোষিত অবরোধের কারণে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়ায় সৌদি আরব থেকে এশিয়ায় জ্বালানি তেল সরবরাহে নতুন সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প পথ হিসেবে সুয়েজ খাল ব্যবহার করা সম্ভব হলেও, তা তেল সরবরাহের স্বাভাবিক গতি ও ব্যয়—দুই ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে বিশ্লেষকদের মত।
হুথিদের অবরোধ ঘোষণার পর সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া দুটি তেলবাহী জাহাজ—‘রোডোস’ ও ‘সিন লং ইয়াং’—বাব আল-মান্দেবের দিকে না গিয়ে উত্তরমুখী হয়ে ফিরে যায়। জাহাজ দুটিতে মোট ২৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। জাহাজ চলাচলবিষয়ক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হুথিদের হুমকির পর সৌদি তেল রপ্তানিতে এটাই প্রথম দৃশ্যমান প্রভাব।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল ইয়ানবু বন্দরে এনে লোহিত সাগর হয়ে রপ্তানি করছিল। তবে এখন বাব আল-মান্দেবও ঝুঁকির মুখে পড়ায় সেই বিকল্প পথও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে সৌদি তেল সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে এশিয়ায় পাঠানো সম্ভব। কিন্তু এতে যাত্রাপথ উল্লেখযোগ্যভাবে দীর্ঘ হবে। ক্লেপলারের হিসাব অনুযায়ী, ইয়ানবু থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় তেল পৌঁছাতে সরাসরি পথে যেখানে প্রায় ২৪ দিন লাগে, সুয়েজ ও আফ্রিকা ঘুরে যেতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৫৪ দিন।
দীর্ঘ এই পথের কারণে জ্বালানি, বীমা ও ভাড়া ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে বড় আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ সুয়েজ খাল অতিক্রম করতে না পারায় মিসরের সুমেদ পাইপলাইন ব্যবহার বা ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তরের প্রয়োজন হতে পারে, যা ব্যয় ও সময় আরও বাড়াবে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এশিয়ার তেল আমদানিকারক দেশগুলো। ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাব আল-মান্দেব হয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এশিয়ায় যায়, যার দুই-তৃতীয়াংশই সৌদি আরবের। সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল ভারত; দেশটির অর্ধেকেরও বেশি তেল আমদানি এই পথ দিয়ে আসে। এছাড়া পাকিস্তান, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান ও চীনও উল্লেখযোগ্যভাবে এই রুটের ওপর নির্ভরশীল।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র বা ভেনেজুয়েলা থেকে বিকল্প সরবরাহের সুযোগ থাকলেও সেগুলোও সীমিত এবং ব্যয়বহুল। ফলে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে এশিয়ার জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়বে, আন্তর্জাতিক পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
/অ