দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন সহায়তা চেয়েছে পাকিস্তান। অনুমোদন মিললে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, রুপির ওপর চাপ কমানো এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে ইসলামাবাদ।
এই অনুরোধের বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের কাছে পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদি ১০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি চেয়েছে পাকিস্তান। অনুমোদন পেলে এটি দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর পাশাপাশি রুপির বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হওয়ায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ দেখছে পাকিস্তান। সেই প্রেক্ষাপটেই এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এদিকে এশিয়ার ব্যবসায়িক সময় শেষ হওয়ায় পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব। বৈঠক শেষে পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে প্রবেশাধিকার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহযোগিতা কামনা করেন।
বর্তমানে পাকিস্তান ৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী দেশটিকে কর বৃদ্ধি, ব্যয়সংকোচন ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে।
এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফ্যাসিলিটি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারির একটি বিশেষ আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে প্রয়োজনে ডলার, কারেন্সি সোয়াপ বা গ্যারান্টি দিয়ে অংশীদার দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মুদ্রার স্থিতিশীলতা রক্ষা করা হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের স্থায়ী ডলার সোয়াপ লাইনের থেকে আলাদা।
রয়টার্স বলছে, ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনার জন্য এমন সহায়তা চালুর পর এটিই হতে পারে নতুন কোনো দেশের জন্য দ্বিতীয় বড় উদ্যোগ। এর আগে ২০০২ সালে উরুগুয়ে এবং দীর্ঘদিন ধরে মেক্সিকো এ ধরনের সহায়তা পেয়েছে।
২০২৩ সালে খেলাপির দ্বারপ্রান্ত থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ স্ট্যান্ডবাই ঋণের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। পরে দেশটি ৭ বিলিয়ন ডলারের এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি এবং জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে অতিরিক্ত ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পায়।
তবুও পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনো বহুলাংশে নির্ভরশীল আইএমএফের কিস্তি, চীন ও সৌদি আরবের ঋণ এবং আমানতের ওপর। চলতি বছরের এপ্রিলে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের সময় রিজার্ভের এক-পঞ্চমাংশ কমে যায়। পরে সৌদি আরব ৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন সহায়তা দিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তা অনুমোদন পেলে তা শুধু পাকিস্তানের তারল্য সংকট মোকাবিলায় নয়, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে আইএমএফের কিস্তি ও জরুরি দ্বিপক্ষীয় ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।
তবে ফিচ রেটিংস সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া নীতিগত অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তা ঝুঁকি, দুর্বল রপ্তানি এবং নিম্ন ঋণমানের কারণে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ এখনো সীমিত রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/