দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের ওপর বিমান হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক চাপ বাড়িয়েও তেহরানকে নতি স্বীকার করানো সম্ভব হবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম। বরং এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এক মাস আগে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ইরানের ওপর হামলা শুরু করেছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব কমানো এবং তেহরানকে নিজেদের শর্ত মেনে আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করা।
এরই মধ্যে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল ব্যাহত করা হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, সেতু, খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল এবং গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাসহ আরও বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে। যদিও এসব পরিকল্পনার অনেকগুলোই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন পানিকফ বলেন, নতুন হামলাও ইরানের অবস্থান বদলাতে পারবে—এমন বিশ্বাস করার কারণ নেই। বরং এতে তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানই চায়। তবে তার ভাষায়, ‘ইরান শুধু সামরিক শক্তির ভাষাই বোঝে’, তাই প্রয়োজন হলে সামরিক চাপ অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থল অভিযান ছাড়া শুধু বিমান হামলা দিয়ে ইরানের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা কঠিন। একই সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সুত্র: রয়টার্স
এমএস/